গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে স্বস্তি পেতে অনেকেই দিনে একাধিকবার গোসল করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গোসল করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা নষ্ট হতে পারে। একজন মানুষের দৈনন্দিন কাজ, ঘামের পরিমাণ ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী গোসলের সংখ্যা নির্ধারণ হওয়া উচিত।
গরমের সময় শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হওয়ায় ত্বকে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে যেতে পারে। এতে দুর্গন্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা বা সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই নিয়মিত গোসল শরীর পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ত্বক সতেজ রাখে।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, সাধারণভাবে দিনে এক থেকে দুইবার গোসল করাই যথেষ্ট। যারা বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে থাকেন বা কম ঘামেন, তাদের জন্য দিনে একবার গোসলই উপযোগী। এতে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল অক্ষুণ্ন থাকে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা তৈরি হয় না।
অন্যদিকে যারা বাইরে কাজ করেন, দীর্ঘসময় রোদে থাকেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তারা দিনে দুইবার গোসল করলে উপকার পেতে পারেন। এতে শরীর পরিষ্কার থাকে এবং ক্লান্তিও কিছুটা কম অনুভূত হয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতি ঘন ঘন গোসল করলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এর ফলে ত্বক রুক্ষ, খসখসে বা সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে চুলকানি, র্যাশ বা অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে।
গরমের দিনে ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো। খুব গরম পানি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন চিকিৎসকেরা। পাশাপাশি মৃদু সাবান ব্যবহার এবং ত্বক অতিরিক্ত ঘষে পরিষ্কার না করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের শরীরের চাহিদা ও কাজের ধরন অনুযায়ী দিনে এক থেকে দুইবার গোসল করাই গরমের সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর অভ্যাস।
প্রতি / এডি / শাআ