ঈদের আগেই অস্থির বাজার, বাড়ছে মসলা ও নিত্যপণ্যের দাম

প্রকাশঃ মে ২২, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪০ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর বাজারগুলোতে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মসলার দাম। ফলে উৎসবের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে মসলা, পোলাওয়ের চাল, ভোজ্যতেল ও শুকনো খাদ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতির কারণে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো বেশি চাপ অনুভব করছে।

ঈদের সময় রান্নায় মসলার ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এসব পণ্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে দামে। বর্তমানে এলাচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়। লবঙ্গের দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা, জিরা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং দারুচিনি ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ধনিয়ার গুঁড়াসহ অন্যান্য মসলার দামও বেড়েছে।

একই সঙ্গে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ ও মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পোলাওয়ের চালের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে। মানভেদে বর্তমানে পোলাও চাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। খোলা সুগন্ধি চাল ও চিনিগুঁড়া চালের দামও বেড়েছে। এছাড়া সেমাই, নুডুলস ও অন্যান্য শুকনো খাদ্যপণ্যের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও অস্থিরতা রয়েছে। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৯০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে। অনেক দোকানে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।

সালাদের উপকরণ হিসেবেও ব্যবহৃত শসা, টমেটো ও কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। তবে লেবুর বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

অন্যদিকে মুরগি ও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তির আভাস মিলেছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কয়েকদিন আগের তুলনায় কিছুটা কম। ডিমের দামও ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

সবজির বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা গেলেও মাছের বাজারে এখনও চড়া দাম বজায় রয়েছে। ইলিশ, চিংড়ি ও দেশি মাছের দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাকেই বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রতি ঈদের আগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন। তাদের দাবি, বাজার মনিটরিং ও তদারকি জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি বাজারেই বেশিরভাগ পণ্যের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারেও। ফলে উৎসবের আনন্দের আগেই বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G