শাহ আবদুল করিমের জন্মদিন আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিক্ষণ ডটকম:
ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ, প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।
তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহ এর দর্শন থেকে।
যদিও দারিদ্রতা তাকে বাধ্য করে কৃষিকাজে তার শ্রম ব্যয় করতে। কিন্তু কোনো কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি।
তিনি আধ্যাত্মিক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশ এর কাছ থেকে। তিনি শরীয়তি, মারফতি, নবুয়ত, বেলায়াসহ সব ধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন। এতগুলো কথা যার জন্য তিনি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।
স্বল্পশিক্ষিত শাহ আব্দুল করিম এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। শিল্পীর চাওয়া অনুযায়ী এ বছরের প্রথম দিকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের উদ্যোগে বাউল আব্দুল করিমের সমগ্র সৃষ্টিকর্ম নিয়ে একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।
কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। সাম্প্রতিককালে এ সময়ের বেশ কয়েকজন শিল্পী শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন।
শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলাধীন ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান। কালনীর তীরে বেড়ে উঠা শাহ আব্দুল করিমের গান ভাটি অঞ্চলে জনপ্রিয় হলেও শহরের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায় মাত্র কয়েক বছর আগে । এ পর্যন্ত প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন।
যার মধ্যে বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে; আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম; গাড়ি চলে না; আমি কূলহারা কলঙ্কিনী; কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া; কোন মেস্তরি নাও বানাইছে; কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু; বসস্ত বাতাসে সইগো .. এ ধরনের অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা লোকসঙ্গীত শিল্পী শাহ আবদুল করিম। আজ তার জন্মদিনে রইল তার সকল শ্রোতার পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
উল্লেখ্য ২০০৯ সালে ১২ সেপ্টেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।
প্রতিক্ষণ/এডি/আকিদ
























