দুধের চেয়েও বেশি ক্যালশিয়াম মিলতে পারে যে খাদ্যশস্যে
অনেক বাবা-মায়েরই অভিযোগ, শিশুদের পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো বেশ কঠিন। বিশেষ করে দুধ খাওয়ানোর সময় বেশিরভাগ শিশুই অনীহা দেখায়। নানা কৌশল অবলম্বন করেও অনেক সময় তাদের দুধ খাওয়ানো সম্ভব হয় না। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দুধের পাশাপাশি বা বিকল্প হিসেবে রাগি (ফিঙ্গার মিলেট) একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাদ্য। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম থাকে, যা হাড় ও দাঁতের সুস্থ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে বা যারা দুধ খেতে পারে না, তাদের জন্যও রাগি ভালো বিকল্প হতে পারে।
শিশুদের খাবারে রাগি যুক্ত করার সহজ কয়েকটি উপায় নিচে তুলে ধরা হলো।
১. রাগি বিস্কুট
রাগির আটা, ওটসের গুঁড়ো, গুড়, ঘি, এলাচগুঁড়ো, সামান্য বেকিং সোডা এবং অল্প দুধ একসঙ্গে মিশিয়ে নরম মণ্ড তৈরি করুন। এরপর ছোট ছোট বিস্কুটের আকার দিয়ে ১৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় প্রায় ১০ মিনিট বেক করলেই তৈরি হবে স্বাস্থ্যকর রাগি বিস্কুট।
২. রাগি চিপস
প্রথমে ধনেগুঁড়ো, আমচুর, চাট মসলা, কাশ্মীরি মরিচের গুঁড়ো ও বিট লবণ মিশিয়ে মসলা তৈরি করুন। এরপর রাগির আটা, চালের গুঁড়ো, গমের আটা, ভাজা তিল ও সামান্য লবণ দিয়ে মণ্ড তৈরি করুন। পাতলা করে বেলে পছন্দমতো আকারে কেটে এয়ার ফ্রায়ার বা অল্প তেলে ভেজে নিন। শেষে প্রস্তুত করা মসলা ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।
৩. রাগি কাটলেট
সেদ্ধ আলু, গাজর, বিট, কাঁচামরিচ ও ধনেপাতার সঙ্গে রাগির আটা, সুজি এবং চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এরপর গোলমরিচের গুঁড়ো, চাট মসলা ও স্বাদমতো লবণ দিয়ে ভালোভাবে মেখে কাটলেটের আকার দিন। অল্প তেলে তাওয়ায় দুই পাশ হালকা বাদামি করে সেঁকে নিলেই তৈরি হবে পুষ্টিকর রাগি কাটলেট।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, শিশুদের খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য আনতে এবং পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম নিশ্চিত করতে রাগি একটি উপকারী শস্য হতে পারে। তবে শিশুর বয়স, শারীরিক অবস্থা বা কোনো খাদ্য অ্যালার্জি থাকলে নতুন খাবার দেওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতি / এডি / শাআ























