জাতীয়করণ হতে যাচ্ছে ১৯ বেসরকারি কলেজ
দেশের বিভিন্ন জেলার ১৯টি বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব পেয়েছে সরকার। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আধা সরকারি পত্রের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রস্তাবগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও এগিয়ে নিচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।
যেসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে
মাউশি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত কলেজগুলোর অবকাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা, শিক্ষার্থী, আর্থিক পরিস্থিতি এবং একাডেমিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব তথ্য পর্যালোচনার পর প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের উপযুক্ত কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম নেওয়া হবে।
জাতীয়করণের প্রস্তাবে থাকা ১৯ কলেজ
যেসব কলেজের জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ
- শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজ, বরিশাল
- আগ্রাবাদ মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম
- সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজ, মাদারীপুর
- গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ, নাটোর
- আবদুল করিম মৃধা কলেজ, পটুয়াখালী
- হাজী ওয়াহেদ-মরিয়ম কলেজ, সিরাজগঞ্জ
- বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজ, বরিশাল
- মহাস্থান মহীসওয়ার ডিগ্রি কলেজ, বগুড়া
- নবকাম পল্লী কলেজ, ফরিদপুর
- করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা কলেজ, ভোলা
- কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজ, মাগুরা
- আমিনুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, মাগুরা
- কাশিনাথপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ, বেড়া, পাবনা
- ঈশ্বরদী মহিলা কলেজ, ঈশ্বরদী, পাবনা
- সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি/অনার্স কলেজ, সুজানগর, পাবনা
- সুজানগর নিজাম উদ্দিন আসগর আলী ডিগ্রি কলেজ, সুজানগর, পাবনা
- কালিয়াকৈর কলেজ, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
- আব্দুর রহমান ডিগ্রি কলেজ, নবপঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও, ময়মনসিংহ
জরুরি ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ
জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক পরিচালকদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে মাউশি। সেখানে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের নির্দেশনার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রস্তাবিত কলেজগুলোর প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথা বলা হয়েছে।
নির্ধারিত ছক অনুযায়ী অঞ্চলভিত্তিক তথ্য যাচাই করে তা জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই শেষে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।
এখনো চূড়ান্ত হয়নি জাতীয়করণ
তবে ১৯টি কলেজ জাতীয়করণের প্রস্তাব পাওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে সরকারি হয়ে গেছে। বর্তমানে এসব কলেজের জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে।
তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই জাতীয়করণ কার্যকর হবে।
জাতীয়করণ হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির ব্যবস্থা এবং সরকারি অর্থায়নেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জাতীয়করণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই জানা যাবে।
প্রতি / এডি / শাআ























