সুন্দরবনে নৌকাডুবি, গাছের ডালে ৬ জন; পানিতে ভাসছিলেন ৩ পর্যটক
সুন্দরবন ঘুরে ফেরার পথে নৌকাডুবির ঘটনায় বিপাকে পড়া নয় পর্যটক ও নৌকার মাঝিকে উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। তাদের মধ্যে ছয়জন পানিতে থাকা গাছের ডাল আঁকড়ে ছিলেন, আর তিনজন নৌকা ধরে নদীতে ভাসছিলেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার শিঙেরটেকের কাছে রাই নদীতে এ ঘটনা ঘটে। জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে আংটিহারা নৌ পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিঙেরটেক এলাকায় সুন্দরবন ভ্রমণ শেষে কাঠের ইঞ্জিনচালিত একটি নৌকায় করে ফিরছিলেন কয়েকজন পর্যটক। রাই নদী দিয়ে ফেরার সময় নৌকাটি পানিতে ডুবে থাকা একটি মরা গাছের ওপর উঠে যায়। এতে নৌকাটি ভারসাম্য হারিয়ে ধীরে ধীরে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে।
নৌকা ডুবতে শুরু করলে কয়েকজন তীরে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। অন্যরা নিজেদের বাঁচাতে নৌকা ও আশপাশে থাকা গাছের ডাল আঁকড়ে পানিতে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানিয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।
খবর পাওয়ার পর আংটিহারা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছে পুলিশ দেখতে পায়, তিনজন নৌকার অংশ ধরে নদীতে ভাসছেন। অন্য ছয়জন পানিতে থাকা গাছের ডাল আঁকড়ে ঝুলে আছেন।
পরে নৌ পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে টহল নৌকায় তুলে নেন। এরপর সবাইকে নিরাপদে নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন নৌকার মাঝি কিসমত আলী (৪৮), নাঈম হোসেন (২২), রাকিবুল ইসলাম (১৮), মো. আশিক (২৫), মো. পলাশ হোসেন (২৩), মো. শাহিন (২৫), ইমামুল হোসেন (২৫), মো. গালিব (২৫) ও মো. আব্দুল্লাহ (২২)।
উদ্ধার অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই দিদারুল আলম। অভিযানে এএসআই মো. সাদ্দাম হোসেন, আবুল কালাম আজাদ ও হৃদয় তালুকদারও অংশ নেন।
আংটিহারা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুখ হোসেন জানান, দায়িত্ব পালনের সময় ৯৯৯-এর মাধ্যমে তারা নৌকাডুবির খবর পান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পর প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তিনজনকে নৌকা ধরে এবং ছয়জনকে গাছের ডাল আঁকড়ে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পায়। পরে সবাইকে উদ্ধার করে টহল নৌকার মাধ্যমে ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নৌ পুলিশের তৎপরতায় নয়জনই নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রতি / এডি / শাআ























