সুদ ছাড়াই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ, আবেদন করতে পারবেন যারা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ সময়ঃ ৮:০১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:০১ অপরাহ্ণ

জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেওয়ার নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ নামের এই সুবিধা রোববার থেকে চালুর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হঠাৎ নগদ অর্থের প্রয়োজন হলে গ্রাহকদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার বাড়ানোই এই ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য। এর আওতায় যোগ্য গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন।

তবে ঋণের টাকা ইচ্ছেমতো খরচ করার সুযোগ থাকবে না। নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে অনুমোদিত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধেই অর্থ ব্যবহার করতে হবে।

যেসব কাজে ব্যবহার করা যাবে

বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ বিভিন্ন ধরনের ইউটিলিটি বিল পরিশোধে এই ঋণ ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয়, ভ্রমণ খরচ, কর ও সরকারি সেবার ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম দেওয়ার ক্ষেত্রেও সুবিধাটি কাজে লাগানো যাবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা পরিচালনা করবে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল মূল্যায়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নিয়মিতভাবে সেবাটি চালুর সুযোগ থাকবে।

হাতে পাওয়া যাবে না ঋণের টাকা

এই ঋণের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, অনুমোদিত অর্থ নগদে উত্তোলন করা যাবে না। এমনকি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল আর্থিক সেবার ওয়ালেটেও এই অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে না।

ঋণের অর্থ নির্ধারিত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতার কাছে পরিশোধ করতে হবে।

সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পরিশোধ

ঋণ গ্রহণের পর তা ফেরত দেওয়ার জন্য গ্রাহককে ৭, ১৫ অথবা ৩০ দিনের মেয়াদ বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত সুদের পরিবর্তে ব্যাংক নির্ধারিত সেবা ফি নেওয়া হবে।

৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মেয়াদ অনুযায়ী। ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে না। একই সঙ্গে আগাম ঋণ পরিশোধের জন্যও কোনো বাড়তি ফি নেওয়া যাবে না।

তবে নির্ধারিত মেয়াদ পার হয়ে গেলে গ্রাহকের ওপর জরিমানা আরোপের সুযোগ থাকবে। এ জরিমানার পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ঋণের জন্য নির্ধারিত দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হতে পারবে না।

পুরো কার্যক্রম হবে ডিজিটাল

নতুন এই ঋণ ব্যবস্থায় গ্রাহকের নিবন্ধন থেকে শুরু করে ঋণ অনুমোদন, বিল বা সেবার মূল্য পরিশোধ এবং ঋণের অর্থ ফেরত নেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হবে।

লেনদেন নিরাপদ রাখতে এককালীন পাসওয়ার্ড, দুই স্তরের পরিচয় যাচাই কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহারের নির্দেশনা থাকবে।

এ ছাড়া এই সেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা, পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী এবং আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণীকরণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, গ্রাহক সুরক্ষা, অর্থ পাচার প্রতিরোধ এবং তথ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধানও এই কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ছোট অঙ্কের জরুরি খরচ মেটাতে গ্রাহকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি অর্থের একটি সহজ উৎস তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশে ডিজিটাল মাধ্যমে বিল ও বিভিন্ন সেবার মূল্য পরিশোধের প্রবণতাও আরও বাড়তে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ 

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G