ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে ঘরেই তৈরি করুন এই ক্রিম
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা ও বয়সের ছাপ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এসব লক্ষণ কমাতে অনেকেই বাজারের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করেন। তবে ত্বকের যত্নে ঘরোয়া কিছু উপাদানও ব্যবহার করা যায়। রান্নাঘর কিংবা বাড়িতে থাকা অ্যালোভেরা, মধু, নারকেল তেল, শসা ও পেঁপের মতো উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ঘরে তৈরি এসব মিশ্রণ সাধারণত সহজে প্রস্তুত করা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে খরচও কম। তবে যেকোনো উপাদান ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া ভালো। সংবেদনশীল ত্বক হলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
জেনে নেওয়া যাক, ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা যায় এমন কয়েকটি ঘরোয়া মিশ্রণ।
অ্যালোভেরা ও ভিটামিন ই
অ্যালোভেরা ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। অন্যদিকে ভিটামিন ই ত্বকের সুরক্ষা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ ভিটামিন ই মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এটি ত্বককে কোমল ও মসৃণ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
নারকেল তেল ও মধু
নারকেল তেল ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। মধুও ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়ক একটি উপাদান। অল্প নারকেল তেলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে ত্বকে পাতলা করে লাগানো যেতে পারে। এতে ত্বক নরম ও কোমল রাখতে সহায়তা করতে পারে।
আমন্ডের মিশ্রণ
কয়েকটি আমন্ড পানিতে ভিজিয়ে রেখে ভালোভাবে বেটে নিতে পারেন। এর সঙ্গে সামান্য দুধ মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করা যায়। আমন্ডে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখতে পারে। শুষ্ক ত্বকে এটি ব্যবহার করলে ত্বক কিছুটা কোমল ও মসৃণ অনুভূত হতে পারে।
গোলাপজল ও গ্লিসারিন
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে গ্লিসারিন বেশ কার্যকর একটি উপাদান। অন্যদিকে গোলাপজল ত্বকে সতেজ অনুভূতি দিতে পারে। অল্প গোলাপজলের সঙ্গে সামান্য গ্লিসারিন মিশিয়ে রাতে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে এটি উপকারী হতে পারে।
হলুদ ও চন্দনের মিশ্রণ
ত্বকের যত্নে হলুদ ও চন্দনের ব্যবহার দীর্ঘদিনের। হলুদে প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যযুক্ত কিছু উপাদান রয়েছে এবং চন্দন ত্বকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে। সামান্য হলুদের সঙ্গে চন্দনের গুঁড়া ও প্রয়োজনমতো পানি বা অন্য উপযুক্ত উপাদান মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়। এটি ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে সহায়তা করতে পারে।
পেঁপের মিশ্রণ
পাকা পেঁপে চটকে তার সঙ্গে অল্প মধু মিশিয়ে সহজেই একটি ফেস প্যাক তৈরি করা যায়। পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন নামের এনজাইম মৃত ত্বককোষ দূর করার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে। ফলে ত্বক কিছুটা মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাতে পারে।
শসা ও অ্যালোভেরা
গরমের দিনে ত্বকের জন্য শসা ও অ্যালোভেরার মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। শসায় প্রচুর পানি থাকায় এটি ত্বককে সতেজ রাখতে সহায়তা করে। অ্যালোভেরা ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতেও ভূমিকা রাখে। শসার রস বা মিহি করা শসার সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে কিছুক্ষণ ত্বকে রেখে ধুয়ে ফেলতে পারেন।
তবে এসব ঘরোয়া উপাদান ত্বকের বয়সের ছাপ বা বলিরেখা স্থায়ীভাবে দূর করে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারও ত্বকে কোনো উপাদান ব্যবহারের পর চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। তাই পুরো মুখে ব্যবহারের আগে ছোট একটি অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া এবং সমস্যা হলে ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
প্রতি / এডি / শাআ























