এখন এক এজেন্টেই পাওয়া যাবে সব মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:০৯ অপরাহ্ণ

দেশের আর্থিক খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘হোয়াইট লেবেল এজেন্ট নেটওয়ার্ক’ চালু হলে একক এজেন্টের মাধ্যমেই সব ধরনের মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমানে গ্রাহকদের ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) কিংবা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে আলাদা আলাদা এজেন্টের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন ব্যবস্থায় এই জটিলতা দূর হবে। একটি এজেন্টই ব্যাংকিং সেবা, এমএফএস, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং মাইক্রোফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সেবা একসঙ্গে দিতে পারবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে ‘পে-স্টেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে কাজ করবে জয়তুন ফাউন্ডেশন। ইতোমধ্যে এজেন্ট নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজও চলছে।

নতুন এই ব্যবস্থায় গ্রাহকরা নগদ টাকা জমা ও উত্তোলন, এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর, মোবাইল ওয়ালেটে লেনদেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন বিল পরিশোধ এবং সরকারি (পি-টু-জি) পেমেন্টসহ সব ধরনের সেবা একই জায়গা থেকে নিতে পারবেন। এমনকি নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে এজেন্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংক এই এজেন্ট নেটওয়ার্ককে ‘হিউম্যান এটিএম’ হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকায়, যেখানে এটিএম বা ব্যাংক শাখার সীমিত উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪২ কোটির বেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ওয়ালেট চালু রয়েছে। তবে সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক অ্যাকাউন্ট সক্রিয়ভাবে ব্যবহার হয় না। নতুন নেটওয়ার্ক চালু হলে এসব অ্যাকাউন্টের ব্যবহার বাড়বে এবং আর্থিক সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এতে একদিকে যেমন গ্রাহকদের সময় ও খরচ কমবে, অন্যদিকে এজেন্ট পর্যায়ের আয়ও বাড়বে। তবে এর সঙ্গে গ্রাহকদের আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

প্রযুক্তিগতভাবে এই সেবায় কিউআর কোড, মাইক্রো এটিএম, ডেবিট কার্ড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি লেনদেনে ওটিপি, পিন বা বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক থাকবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

গ্রাহক সুরক্ষায় কঠোর নীতিমালা থাকছে। এজেন্টদের ফি তালিকা প্রকাশ করতে হবে, অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টা সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞা থাকবে এবং পুরো কার্যক্রম নিয়মিত নজরদারিতে রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই নতুন এজেন্ট নেটওয়ার্ক চালু হলে দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে। এক জায়গা থেকেই সব সেবা পাওয়ার সুযোগ গ্রাহকদের জন্য যেমন সুবিধাজনক হবে, তেমনি ক্যাশলেস অর্থনীতির দিকে অগ্রযাত্রাও আরও দ্রুত হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G