চাঁদের পাশে বিরল দৃশ্যের সাক্ষী আর্টেমিস-২ নভোচারীরা

প্রকাশঃ এপ্রিল ১১, ২০২৬ সময়ঃ ৬:২৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৬:২৫ অপরাহ্ণ

চাঁদের পাশ দিয়ে ঐতিহাসিক এক মহাকাশযাত্রা শেষে পৃথিবীর পথে ফিরছেন NASA-এর আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) চন্দ্রপৃষ্ঠ অতিক্রমের সময় তারা জানান, এই অভিজ্ঞতা ছিল ভাষায় প্রকাশের বাইরে।

ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে তারা চাঁদের অসংখ্য গিরিখাত, ফাটল আর শৈলশিরার ছবি ধারণ করেন। একই সঙ্গে ক্যামেরায় ধরা পড়ে কিছু বিরল দৃশ্য—যেমন ‘আর্থরাইজ’ (চাঁদ থেকে পৃথিবীর উদয়), মহাকাশ থেকে দেখা সূর্যগ্রহণ এবং বিশাল Orientale Basin। এসব দৃশ্য আগে এভাবে মানুষের চোখে ধরা পড়েনি।

মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করার সময় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল নভোচারীদের। এই অভিজ্ঞতা নিয়েও তারা উচ্ছ্বসিত।

নাসার নভোচারী Christina Koch বলেন, এত কাছ থেকে চাঁদের ভূপ্রকৃতি দেখা তার কাছে ছিল এক অসাধারণ অনুভূতি। ধূসর পৃষ্ঠে ছড়িয়ে থাকা আলোকিত গর্তগুলো তাকে মুগ্ধ করেছে।

আরেক নভোচারী Victor Glover জানান, জানালার বাইরে তাকালে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই চাঁদের রুক্ষ পাহাড়ে হেঁটে বেড়াচ্ছেন।

এই অভিযানে সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছে আর্টেমিস-২ দল ভেঙে দিয়েছে Apollo 13 mission-এর গড়া পুরোনো রেকর্ড। এই সাফল্যের পর নভোচারীরা সরাসরি কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে।

কানাডিয়ান নভোচারী Jeremy Hansen জানান, পৃথিবী থেকে দেখা চাঁদের অংশের তুলনায় বিপরীত পাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে অন্ধকার সমভূমি বা ‘মারিয়া’ অনেক কম।

অন্যদিকে Reid Wiseman বলেন, মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ দেখা ছিল দারুণ এক অভিজ্ঞতা। এই মিশন ভবিষ্যতে মানুষকে বহুগ্রহে বসবাসের পথে এক ধাপ এগিয়ে দিল।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই মিশন উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। অপটিক্যাল কমিউনিকেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে মাত্র ৪৫ মিনিটে প্রায় ২০ গিগাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি দ্রুতগতিতে পৃথিবীর দিকে এগোচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের San Diego উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

তবে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ। এই সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলের বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সব মিলিয়ে, এই সফল চন্দ্রাভিযান ভবিষ্যতে মঙ্গলসহ গভীর মহাকাশে মানুষের যাত্রার স্বপ্নকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G