ভর্তি জটিলতায় শিক্ষার্থীরা

প্রথম প্রকাশঃ জুন ৩০, ২০১৫ সময়ঃ ১২:১৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

ফাহিম মোনায়েম

1stএকাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে অনলাইন পদ্ধতি শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের জীবনে মহাদুর্ভোগ বয়ে এনেছে। কারিগরি ত্রুটি আর দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে শুরু থেকেই এ নিয়ে ভোগান্তি ও হয়রানি পৌঁছেছে চরমে।

২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে দ্বিতীয় দিনেও ফলাফল কিংবা ভর্তি জটিলতা নিয়ে অভিযোগ কমেনি। আজ (মঙ্গলবার) সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় ভর্তির আনুষ্ঠানিকতা চলবে বিকেল পর্যন্ত।

সকাল থেকেই ভর্তি কার্যক্রমের জটিলতার নানা অভিযোগ নিয়ে রাজধানীর বকশীবাজারে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ে আসছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তারা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক ড. আসফাকুস সালেহীনের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। সেখানে প্রায় দুই থেকে তিনশ শিক্ষার্থী ও অভিবাবক অবস্থান করছেন। সময় যত এগিয়ে যাচ্ছে অভিযোগকারীদের সংখ্যাও তত বাড়ছে।

অভিভাবক ও ছাত্রদের অভিযোগ অনলাইনে অনেক কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের রোল নম্বর সংগ্রহ করে ভর্তি আবেদন ফরম পুরণ করে ভর্তি দেখিয়েছে। আর এতে হয়রানির স্বীকার হচ্ছে তারা। জান্নাতুল ফেরদৌস মুক্তা নামে এক ছাত্রী মুঠো ফোনে প্রতিক্ষণকে জানান, আমি ভর্তি হবো বরগুনার তালতলী কলেজে সেখানে আবেদন করেছি কিন্তু আমার ভর্তি আবেদন দেখাচ্ছে বেতগী ডিগ্রী কলেজে। কিভাবে এই ভর্তি বাতিল করে ভর্তি হবো সেটাও জানতে পারছিনা।

এ বিষয়ে বেতাগী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: শাহিন হাসানের কাছে রজানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ কাজটি করিনি। তবে কারা করেছে তাও বলতে পারছিনা। তবে এ ঘটনা দু:খজনক।

বেলাল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী জানান, আমি আবেদন করতে গিয়ে দেখি আমার আবেদন করা হয়েছে অনলাইনে দেখাচ্ছে, সেটা পরিবর্তন করাইছি। এখন আমি আবেদন যেখানে করেছি সেখানে না হয়ে ভর্তি দেখাচ্ছে অন্য কলেজে। তার পাসওয়ার্ড নম্বর লাগবে কিন্তু আমি তা জানিনা। এখন সেই কলেজে গিয়ে আমার ভর্তি বাতিল করতে হবে তার সময় লাগবে। তার মধ্যে ভর্তি তারিখ শেষ হয়ে যাবে। তাতে বিলম্ব ফি তালিকায় পরতে হবে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন কলেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সকাল থেকে কলেজ প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এ ভর্তি কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন তারা। তবে ভর্তি ফলাফল পেতে ভোগান্তির কথাও জানালেন অনেকেই। আবার অনেকে ভর্তির চয়েজ পরিবর্তন হওয়ায় অভিভাক ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা যে সব কলেজে চয়েজ দিয়েছে তা না দিয়ে অন্য কলেজে পরেছে তা পরিবর্তন করতে নানা জটিলতায় পোহাতে হচ্ছে। একইসঙ্গে বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তির সময়সীমা কম হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

অন্যদিকে, আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে একাদশ শ্রেণির ক্লাস। তবে বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি কার্যক্রম চলবে ২ জুলাই পর্যন্ত। এরপর কলেজগুলোর খালি আসনের ভিত্তিতে দ্বিতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ৬ জুলাই। প্রথম মেধাতালিকার শিক্ষার্থীরা প্রথমে কলেজে ভর্তি হয়ে পরবর্তীতে মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অন্য ভর্তি ভর্তি হতে পারবেন। এর জন্য ৪ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে নিজ নিজ আবেদন আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কলেজ পরিবর্তনের সম্মতি দিতে হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় মেধাতালিকায় স্থান না পাওয়া শিক্ষার্থীদের রিলিজ স্লিপ প্রদান করা হবে। তারা কলেজগুলোর খালি আসনের বিপরীতে অনলাইনে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের পছন্দ দিয়ে ৯ ও ১০ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করবেন।

রিলিজ স্লিপের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে ১১ জুলাই। আর যারা অনলাইনে আবেদন করেন নি তারা শূণ্য আসনের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি হতে পারবেন। তারা ১৩ থেকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অনলাইনে ও মোবাইলে এসএসএসের মাধ্যমে আবেদন করবেন।

প্রতিক্ষণ/এডি/ফাহিম

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G