মাত্র ১০ টাকা কেজিতে সারা দেশে পণ্য পৌঁছে দেবে ডাক বিভাগ

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ সময়ঃ ৮:১১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:১১ অপরাহ্ণ

Department of Postsঅনলাইনে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাঠানোর খরচ অনেক সময় বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কুরিয়ার সেবার বাড়তি মাশুলের কারণে অনেক উদ্যোক্তাকেই সমস্যায় পড়তে হয়। এ অবস্থায় তুলনামূলক কম খরচে পার্সেল পরিবহনের সুযোগ দিতে ‘স্পিডপোস্ট’ সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।

‘আজ বুকিং, আগামীকাল ঢাকা এবং ৪৮ ঘণ্টায় সারা বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে চালু হওয়া এ সেবায় প্রথম এক কেজি পণ্য পাঠাতে খরচ পড়বে মাত্র ১০ টাকা। এরপর প্রতি অতিরিক্ত কেজির জন্য দিতে হবে ৫ টাকা করে।

এক পার্সেলে পাঠানো যাবে ৩০ কেজি পর্যন্ত

ডাক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্পিডপোস্টের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ওজনের পণ্য পাঠানো যাবে। শুকনো খাবার, মধু, তেলসহ বিভিন্ন পণ্য ছাড়াও তুলনামূলক ভারী সামগ্রী পাঠানোর সুবিধা থাকছে এ সেবায়।

জেলা শহর থেকে ঢাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ২৪ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এক জেলা শহর থেকে অন্য জেলা শহরে পাঠানো পণ্য পৌঁছাতে লাগতে পারে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা।

তবে প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পার্সেল পৌঁছাতে সময় কিছুটা বেশি লাগবে। এসব এলাকায় সর্বোচ্চ ৯৬ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। প্রতি শুক্রবার স্পিডপোস্টের বুকিং ও পার্সেল বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

যেভাবে পাঠাতে হবে পার্সেল

স্পিডপোস্ট ব্যবহার করতে হলে গ্রাহককে দেশের যেকোনো জেনারেল পোস্ট অফিস, প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর কিংবা সাব-পোস্ট অফিসে যেতে হবে।

ডাক বিভাগের নির্ধারিত নিয়ম মেনে পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে। এরপর পার্সেলের গায়ে প্রেরক ও প্রাপকের পূর্ণ ঠিকানা স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করার পর গ্রাহককে একটি রসিদ দেওয়া হবে। ওই রসিদে থাকবে পার্সেল শনাক্ত ও অনুসরণের জন্য প্রয়োজনীয় ট্র্যাকিং নম্বর।

অনলাইনেই জানা যাবে পার্সেলের অবস্থান

পার্সেল বুকিংয়ের পর সেটি বর্তমানে কোথায় রয়েছে, তা অনলাইনে ট্র্যাক করার সুযোগ রয়েছে। ফলে গ্রাহক ঘরে বসেই পার্সেলের সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন।

এ ছাড়া বুকিংয়ের আগে অনলাইনে পার্সেলের সম্ভাব্য মাশুলের হিসাবও জানা যাবে। এতে পণ্য পাঠানোর আগেই গ্রাহক কত টাকা খরচ হবে, সে সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।

ঢাকায় ২১টি পোস্ট অফিসে বুকিং

রাজধানীতে ঢাকা জিপিওর পাশাপাশি গুলশান, বনানী, মিরপুর, উত্তরা, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমণ্ডি ও ওয়ারীসহ ২১টি প্রধান সাব-পোস্ট অফিসে স্পিডপোস্টের পার্সেল গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে।

বর্তমানে প্রধান ডাকঘর ও উপজেলা ডাকঘর থেকে পার্সেল বিতরণ করা হচ্ছে। ডাক বিভাগ জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে ২ হাজারের বেশি পোস্ট অফিস থেকে ডেলিভারি ইস্যুর ব্যবস্থা চালু করা হবে।

জনপ্রিয় হচ্ছে স্পিডপোস্ট

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, স্পিডপোস্ট সেবা এরই মধ্যে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে। নিয়মিতভাবে শুকনো খাবার, মধু, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এ সেবার মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি জানান, সেবাটি চালুর আগে কয়েকটি বাইসাইকেল ও সাইকেল পাঠিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম যাচাই করা হয়েছিল। বর্তমানে ঢাকা থেকে যেকোনো জেলা শহরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পণ্য আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে।

দূরবর্তী জেলা ও উপজেলায় আপাতত প্রায় ৭২ ঘণ্টা সময় লাগলেও ভবিষ্যতে এই সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

পার্সেল বুকিংয়ের নিয়ম

স্পিডপোস্টে পণ্য পাঠানোর প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। এ জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হবে।

প্রথমে: নিকটস্থ ডাকঘরে গিয়ে স্পিডপোস্টের মাধ্যমে পণ্য পাঠানোর জন্য আবেদন করতে হবে।

দ্বিতীয় ধাপে: ডাক বিভাগের নিয়ম মেনে পণ্যটি নিরাপদভাবে প্যাকেটজাত করতে হবে।

তৃতীয় ধাপে: পার্সেলের ওপর প্রেরক ও প্রাপকের সঠিক এবং পূর্ণ ঠিকানা পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে।

চতুর্থ ধাপে: নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করে বুকিং সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ট্র্যাকিং নম্বরযুক্ত রসিদ সংগ্রহ করতে হবে।

সবশেষে: ট্র্যাকিং নম্বর ব্যবহার করে পার্সেলের অবস্থান জানা যাবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করবে ডাক বিভাগ।

কম খরচে পণ্য পরিবহনের এই সেবা বিশেষ করে অনলাইনভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের জন্য কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে কেজিপ্রতি মাত্র ১০ টাকা থেকে শুরু হওয়া মাশুলের কারণে পণ্য পাঠানোর খরচ কমাতে এটি অনেকের জন্য বিকল্প একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G