রিপোর্টারকে ঝুঁকিতে ফেলার দায় কার?

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২, ২০১৯ সময়ঃ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

রাকিব হাসান: লেখক ও সাংবাদিক

একটি চ্যানেলের চট্টগ্রাম প্রতিনিধির দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার লাইভ নিয়ে ফেসবুক বেশ সরগরম। কেউ তাকে প্রশংসার বন্যায় ভাসাচ্ছেন আবার কেউ বাজে মন্তব্য করছেন! মনে রাখা দরকার এটা সম্পূর্ণভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের একটি অংশ মাত্র। রিপোর্টার তাই করেছেন। এখানে বাহবা পাওয়ার কিংবা নেতিবাচক সমালোচনা করবার মতো তেমন কোনো কিছুই নেই। যারা পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করে এই অতি সাধারণ বিষয়টিকে ভাইরাল করেছেন তাদের উভয়েরই জেনে রাখা উচিত সাংবাদিকতায় প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করতে হয়; আর টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তা একটু বেশিই নিতে হয়। একজন রিপোর্টারকে তাৎক্ষণিকভাবে (Instant) অনেক কিছু সামাল দিতে হয়। সংবাদ সম্প্রচারে যেন গোলযোগ সৃষ্টি না হয় সেকারণে কারিগরি বিষয়টি যেমন রিপোর্টারকে মাথায় রাখতে হয়; তেমনি রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে রিপোর্ট করার মানসিকতা নিয়েও পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যেতে হয়। এসি রুমে বসে অনেক কিছুই বলা যায়; কিন্তু ফিল্ডের উত্তাপ টের পাওয়া যায়না! তবে এটা ঠিক বাস্তবে দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির রিপোর্ট করতে গিয়ে দেখেছি প্রস্তুতি (protection) নিয়ে না যাওয়াটাও অনেকটা খালি হাতে যুদ্ধে যাবার শামিল। স্পটে যাবার আগেই ক্যামেরা, ক্যামেরা পার্সন, লাইভ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি, এসব যন্ত্রপাতি ও নিজের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং নিউজরুমের সাথে সমন্বয় সাধনের বিষয়গুলোতে সজাগ থাকতে হয়।
রিপোর্টারদের যে একটা টিমে কাজ করতে হয় এটা অনেকের হয়তো জানা নেই। ক্যামেরার পেছনে নেপথ্যে যারা থাকেন তাদেরও যে কিছু দায় থেকে যায় এটাও আমরা বেমালুম ভুলে যাই। ভাইরাল হওয়া লাইভটি বেশ কয়েকবার দেখে আমার অন্তত তাই মনে হয়েছে। রিপোর্টার যখন লাইভ শুরু করেছেন তখন ঝড়ো বাতাস থাকলেও বৃষ্টি ছিলো না। লাইভের শেষের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে রিপোর্টার ভিজে জড়োসড়ো হন। তিনি বলেন হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে এবং ক্রমেই বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ছে। তিনি যখন লাইভ শেষ করে দিতে যাবেন সেইমুহূর্তে প্রেজেন্টার তাকে একটি প্রশ্ন করে বসেন। আর এর উত্তর দিতে গিয়ে রিপোর্টার আরো কাকভেজা হন। এক পর্যায়ে গাড়ীতে আশ্রয় নিয়ে তিনি লাইভ শেষ করতে বাধ্য হন। অথচ এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে তাকে কেউ কেউ প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিচ্ছেন আবার কেউ কেউ মনের ঝাল মিটিয়ে গালি দিচ্ছেন। কিন্তু কেন?রিপোর্টার কী তার লাইভে এক্সক্লুসিভ এমন কিছু দেখিয়ে ফেলেছেন? তাহলে??? অথবা তিনি কী সমালোচনা করার মতো নেতিবাচক কোনো কিছু করেছেন? তাহলে?? কেন গালি দিচ্ছেন?
আপনার কী মনে হয়? রিপোর্টারকে ঝুঁকিতে ফেলার দায় কার? রিপোর্টারের? হ্যাঁ, কিছুটাতো বটে। কারণ একটা ঝড়ের লাইভ করতে যাচ্ছি; সুতরাং প্রস্তুতি হিসেবে রেইনকোট নিয়ে যাবার প্রয়োজন ছিলো। যদিও শুরুতে বৃষ্টি ছিলো না, এটা বলে কিছুটা দায় এড়ানোর সুযোগ থেকে গেলেও পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজনকে কখনও অস্বীকার করা যাবে না। তাহলে প্রশ্ন করে তাকে আরো ভেজানোর দায় কী প্রেজেন্টারের? আপাত দৃষ্টিতে তাই মনে হয়, কিন্তু যেই পান্ডিত্য ভাব নিয়ে তারা লাইভে মাঝে মাঝে প্রশ্ন করেন সেগুলোর বেশীরভাগই প্রোডিওসাররা টকব্যাগ এর মাধ্যমে শিখিয়ে দেন। তাহলে কি সব দায় প্রোডিওসারের? না। নিউজরুম থেকে যখন হেড অব নিউজ, সিএনই কিংবা দায়িত্বশীল কোনো নিউজ এডিটর প্রোডিসারকে ফোন দিয়ে বলে দেন প্রেজেন্টারকে এখন এই প্রশ্নটি করতে বলেন। তখন তিনিও স্রেফ নির্দেশ পালন করেন মাত্র। সুতরাং দায়ভার কার? কী মনে হয়?নিউজরুমের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিটির নয় কি? অবশ্যই। এর আগেও রানা প্লাজার লাইভের সময়ও রিপোর্টারকে গভীর সুড়ঙ্গের ভেতর ঝুঁকিপূর্ণ লাইভে পাঠিয়ে নিজেদের যোগ্যতার(!) পরিচয় দিয়েছেন এই চ্যানেলের কর্তাব্যক্তিরা। কাজেই না জেনে না বুঝে অযথা সাংবাদিকদের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা সমীচীন নয়। আপনার যদি নিতান্তই গালি দিতে ইচ্ছে হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি বা নিউজরুমকে দিন। আর এ ধরণের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রিয় সহকর্মীদের বলবো, ‘সেফটি ইজ দ্যা ফাস্ট প্রয়োরিটি’!

—–

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

ডিসেম্বর ২০১৯
শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
« নভেম্বর    
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
20G