আপনি কি কোপেনহেগেন ভার্সিটিতে ভর্তি হতে চান?

প্রকাশঃ আগস্ট ৩, ২০১৭ সময়ঃ ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

মোহাম্মদ ফয়সাল, ডেনমার্ক:

ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড এবং আইসল্যান্ড এ পাঁচটি দেশের সেরা ইউনিভার্সিটির কথা আসতেই কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির নাম চলে আসে সবার আগে। বিশ্বের সবকটি রেঙ্কিং সংস্থার জরিপে নরডিক অঞ্চলের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে বেশ অনেক বছর ধরে কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির নাম শীর্ষে অবস্থান করছে।

উত্তর ইউরোপের সেরা এবং সবচেয়ে প্রাচীন এ বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকাল ১৪৭৯। এ পর্যন্ত এ বিশ্ববিদ্যালয়টির পদার্থ এবং মেডিসিন বিভাগ ৮টি নোবেল পুরষ্কার লাভের অসামান্য গৌরব অর্জন করে। বর্তমানে কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির ৬টি ফ্যাকাল্টি এবং ১০০টি বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট ও গবেষণা সেন্টারে প্রায় ৪০ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে; যার মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এর সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়- প্রায় ৫ হাজারের অধিক। এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতেই কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৭০০০ দেশি-বিদেশী শিক্ষক, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণীর পেশাজীবী মানুষ।

সঠিক তথ্য এবং প্রচারের অভাবে প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে হাতেগোনা মাত্র দু-চার জন মেধাবী শিক্ষার্থী এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসেন; যদিও বিভিন্ন বিভাগে প্রতি বছরই কেউ না কেউ আসেন পিএইচডি করতে। এ অঞ্চলের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশী ছেলেমেয়েদের কাছে এ বিশ্ববিদ্যালয় একেবারে অপরিচিত।

আমার এ লেখার উদ্দেশ্যে কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে বাংলাদেশ থেকে উচ্চ শিক্ষায় আগ্রহী ছেলেমেয়েদের একটা সঠিক ধারণা দেয়া এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামে যেন অধিক সংখ্যক বাংলাদেশী স্টুডেন্টরা উচ্চ শিক্ষা লাভ করতে পারে; সে সুযোগ করে দেয়ার ছোট্ট এ প্রয়াস।

প্রচারের অভাব হোক কিংবা অন্য কোন কারণেই হোক না কেন; ইউরোপের অন্যান্য নামিদামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় ডেনমার্কের সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোতে বাংলাদেশ থেকে মেধাবী ছেলেমেয়েদের উপস্থিতি খুবই কম। এ দেশের বিভিন্ন কলেজে যারা পড়তে আসে; তাদের অধিকাংশই পড়াশোনা না করে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, পর্তুগাল বা ইটালি ইত্যাদি বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার মাঝ পথেই পালিয়ে যেতে দেখা যায়। বাংলাদেশী স্টুডেন্টদের পড়াশোনা না করে অন্যদেশে পালিয়ে যাবার কারণে; সব সময় স্থানীয় কলেজগুলোতে বাংলাদেশী স্টুডেন্ট সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করতে দেখা যায়। যা হোক, আসল প্রসঙ্গে ফিরে আসি, বলছিলাম কোপেনহেগেন উনিভার্সিটিতে পড়াশোনা সম্পর্কে।

বাংলাদেশী মেধাবী ছেলেমেয়েদের জন্য কোপেনহেগেন উনিভার্সিটি হতে পারে একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মেডিসিন এন্ড হেলথ সায়েন্স, ভেটেনারী এন্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স, কলা, আইন, সোশ্যাল সায়েন্স, সায়েন্স এবং ধর্ম অনুষদের আওতায় অসংখ্য বিষয়ে এখানে মাস্টার্স এবং পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। তবে বিখ্যাত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা ব্যাচলার লেভেলে ইংরেজি মাধ্যমে পড়ার কোনো সুযোগ নেই।

ভর্তির যোগ্যতাঃ
যেহেতু কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটি ইউরোপের সেরা এবং এলিট ইউনিভার্সিটিগুলোর একটি, তাই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে যা দরকার-

– টোফেল বা আইইএলটিএস স্কোরের (নূন্যতম ৬.৫)
– ভালো একাডেমিক গ্রেড
– মোটিভেশন লেটার
– স্ট্যান্ডার্ড সিভি
– রেফারেন্স লেটার
– আবেদন ফি ১০০ ইউরো

বি:দ্রঃ কিছু কিছু ক্ষেত্রে যেমন- ইংলিশ, পলিটিকেল সায়েন্স, সোশিয়লজি, ইসলামের ইতিহাস/ স্টাডিজ, ইকনোমিক্স, ল, ম্যাথম্যাটিকস, পরিসংখ্যান ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আইইএলটিএস স্কোরের ৬.০ দিয়েও ভর্তি সম্ভব।

একাডেমিক সেশন ও ভর্তির ডেড লাইনঃ
মূলত নরডিক অঞ্চলে একটাই একাডেমিক সেশন থাকে এবং আগস্ট/সেপ্টেম্বর ছাড়া জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি সেশনে হাতেগোনা নূন্যতম কিছু প্রোগ্রাম অফার করে থাকলেও; এ অঞ্চলে সেশন একটাই- আগস্ট/সেপ্টেম্বর সেশন। ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বর থেকে এবং আবেদনের শেষ তারিখ জানুয়ারির ১৫ তারিখ।

বাৎসরিক টিউশন ফিঃ
৭ হাজার ইউরো থেকে ১২ হাজার ইউরো পর্যন্ত। বিশেষত আর্টস ও সোশ্যাল সায়েন্স অনুষদের আওতাধীন প্রোগ্রামের টিউশন ফি সবচেয়ে কম হলেও সায়েন্স বিভাগের টিউশন ফি সবচেয়ে বেশি ধার্য করা হয়।

পার্ট-টাইম জব সুবিধাঃ
ডেনমার্কে পড়ুয়া ইন্টারন্যাশনাল ছাত্রছাত্রীরা ক্লাস চলাকালীন সময়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজের সুযোগ পেলেও জুন, জুলাই এবং আগস্ট মাসে অর্থাৎ গ্রীষ্মের ছুটিতে ফুল টাইম কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকে।

সুবিধা সমূহ-

– স্টাবলিশমেন্ট কার্ড ( মাস্টার্স শেষ করে ২ বছরের ওয়ার্ক পারমিট)
– কোপেনহেগেনে কাজের সুযোগ-সুবিধার পরিধি অন্যান্য শহরের চেয়ে অনেক বেশি।
– ঘণ্টা প্রতি উচ্চ পেমেন্ট রেট
– ডেনমার্ককে ট্রানজিট হিসাবে ব্যাবহার করে ইউএসএ, কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় মাইগ্রেশনের সুযোগ

অসুবিধা সমূহ-
– মারাত্মক আবাসন সংকট
– সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বার (সিপিআর) বিড়ম্বনা
– পড়াশোনা শেষে প্রফেশনাল জব সংকট
– ভাষাগত সমস্যা
– সিদ্ধান্ত গ্রহণে সংকট
– পার্মানেন্ট বা স্থায়ী হিসাবে বসবাসের সুযোগ কম

কাজ করে কি টিউশন ফি কাভার করা সম্ভব?
এটি সবচেয়ে কমন প্রশ্ন এবং শুধুমাত্র এ প্রশ্নটি নিয়ে বিস্তারিত অন্য কোনো সময় লিখব ইনশাল্লাহ। তবে সংক্ষেপে বলা যায়, ডেনমার্কে পড়াশোনার পাশাপাশি জব করে টিউশন ফি তোলা অসম্ভব না হলেও বেশ দুরূহ কাজ বলে আমার মত।

স্টাডি ইন ডেনমার্ক সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ হোমপেইজ:

– স্টাডি ইন ডেনমার্ক www.http://studyindenmark.dk/
– কোপেনহেগেন উনিভার্সিটি www. http://www.ku.dk/english/
কোপেনহেগেন উনিভার্সিটি ফেইসবুক পেইজ https://www.facebook.com/universitet
ডেনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিসঃ https://www.nyidanmark.dk/en-US/
বাংলাদেশে অবস্থিত ডেনমার্কে দূতাবাসঃ http://bangladesh.um.dk/
ডেনমার্ক থেকে প্রচারিত একমাত্র বাংলাদেশী পত্রিকা w.https://www.facebook.com/CopenhagenBanglaBarta

আপনি কি ডেনমার্ক তথা নর্থ ইউরোপের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আগ্রহী? আপনি উপরে দেয়া ইউনিভার্সিটি হোম পেইজ, অফিশিয়াল ফেইসবুক ইত্যাদির সহায়তা নিতে পারেন। এত তথ্য থাকার পরও কেউ যদি ব্যক্তিগত কনসালটেন্সি নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে চান তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন গ্লোবাল এডুকেশন ডেনমার্কের বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক ঠিকানায়-

বাংলাদেশ ঠিকানা:

বাংলাদেশ অফিস : গ্লোবাল এডুকেশন ডেনমার্ক, ১৮৫ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫, ফোন- ০১৫৩৪ ৫৮১০৮৮

ডেনমার্ক ঠিকানাঃ মোহাম্মদ ফয়সাল, ডাইরেক্টর, গ্লোবাল এডুকেশন ডেনমার্ক

হোয়াটসআপ+ ৪৫৫৩৩৫৩১৮৬, স্কাইপেঃ faisalsweden
ইমেইলঃ [email protected]

 

 

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G