পোশাকশিল্পের ৪০ শতাংশ অর্ডার বাতিল

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২২, ২০১৫ সময়ঃ ৪:০০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:০০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক,প্রতিক্ষণ ডটকম

গার্মে ঢাকা :রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যয় নেমেছে দেশের  রপ্তানি পণ্য পোশাক খাতে।  ২০ দলীয় জোটের টানা হরতাল-অবরোধে ইতোমধ্যেই পোশাকশিল্পের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ অর্ডার বাতিল হয়েছে বলে জানায় বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)।

বিকেএমইএ সূত্রে প্রকাশ, সম্প্রতি বায়াররা অর্ডার দিতে শুরু করেছিলো। কিন্তু, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বায়াররা  আসছে না। এছাড়া অনেকে তাদের অর্ডার বাতিল করে দিয়েছে।  এছাড়া চলমান অবরোধে পোশাক খাতের ৪’শ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলেও জানা য়ায়।

এ বিষয়ে বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম  বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বায়াররা  এদেশে আসতে চাচ্ছে না।

অর্ডার বাতিল হওয়ার কারণ জানতে চাইলে হাতেম বলেন, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা (বায়াররা) শঙ্কিত যে আমরা সময়মত শিপমেন্ট দিতে পারব কিনা। তাই তারা অর্ডার বাতিল করেছেন।

বিকেএমইএ জানায়, গত ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষতি পুষিয়ে নিয়ে বর্তমান রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা কারখানাগুলোতে ফায়ার সেফটি, বিল্ডিং সেফটি এবং কমপ্লায়েন্সসহ সকল নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইতোমধ্যেই একটা অবস্থান তৈরি করেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা পোশাক খাতকে দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিবে।

হাতেম  বলেন, অবরোধে এক্সেসরিজ, ফেব্রিক্স এবং অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহন ব্যাহত হয়। ফলে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে  সময়মত তার শিপমেন্ট দিতে পারি না। এ কারণেই এয়ারযোগে (বিমান) বিদেশে মাল পাঠাতে হয়। যাতে প্রতি কন্টেইনারে খরচ পড়ে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা। আর এ কারণেই উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হই।

পোশাক শিল্পের আরেক সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, একদিনের হরতাল বা অবরোধে পোশাকশিল্পের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার লোকসান হয়।

সংগঠনের সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজীম বলেন, বর্তমানে ক্রয়াদেশ আসার সময়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ক্রয়াদেশ কমে যাচ্ছে। এরই মধ্যে ক্রেতারা এদেশে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তারা আমাদের থাইল্যান্ড, হংকং যেতে বলেছেন। ফলে আমাদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা যায়, পোশাক শিল্প হরতালের আওতামুক্ত থাকলেও  একটি অর্ডার সম্পন্ন করতে হলে সহযোগী বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান যেমন, বস্ত্র কারখানা, এক্সেসরিজ, ওয়াশিং, ডাইং, প্রিন্টিং, প্যাকেজিং প্রভৃতির সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করতে হয়। তাই  সামান্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী কার্যক্রমই এ শিল্পের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বিঘ্নিত করে ।

প্রতিক্ষণ/এডি/মন্ডল

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G