মুসলিম বিশ্বে মুহাম্মদ নামের জনপ্রিয়তা নিয়ে ট্রাম্পের বিদ্রূপ

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৭, ২০২৬ সময়ঃ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৫:৫৬ অপরাহ্ণ

মুসলিমদের মধ্যে ‘মুহাম্মদ’ নামের ব্যাপক প্রচলন নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি নামটির জনপ্রিয়তা নিয়ে রসিকতা করেন। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালটনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

সমাবেশে মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের নাম প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, কারও নাম নিয়ে নিশ্চিত হতে না পারলে ‘মুহাম্মদ’ বলে সম্বোধন করা যেতে পারে। তাঁর দাবি, এভাবে ডাকলে সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় ৬৫ শতাংশ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহু বছর ধরে এভাবে সম্বোধন করে আসছেন এবং কখনো ভুল হয়নি।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে মুহাম্মদ ছেলেদের বহুল প্রচলিত নামগুলোর একটি। ইসলামের মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা থেকে অনেক মুসলিম পরিবার সন্তানের নাম এই নামে রাখেন।

জর্জিয়ার ডালটন মিউনিসিপ্যাল বিমানবন্দরের একটি উড়োজাহাজ রাখার হ্যাঙ্গারে আয়োজিত সমাবেশে ইরান প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প নামটি নিয়ে এ মন্তব্য করেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছিলেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পদ নিয়েও কৌতুক করেন ট্রাম্প। দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানই একমাত্র দেশ, যেখানে কেউ প্রেসিডেন্ট হতে চান না। এরপর ‘মুহাম্মদ’ নামের কয়েকজন কাল্পনিক ব্যক্তিকে প্রেসিডেন্ট হতে আগ্রহী কি না, এমন প্রশ্ন করার ভঙ্গি করেন তিনি। ২০২৪ সাল থেকে ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন মাসুদ পেজেশকিয়ান। ট্রাম্পের এই রসিকতায় সমাবেশে উপস্থিত মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল তুলনামূলক মৃদু।

মুসলিমদের নিয়ে মন্তব্যে সমালোচনা

ট্রাম্পের বক্তব্য ও রাজনৈতিক ভাষার সমালোচনা করে আসছেন মানবাধিকারকর্মী এবং মুসলিম অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর কিছু বক্তব্যে মুসলিম, অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয় এবং তাঁদের নিয়ে বিদ্রূপ করা হয়।

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারাভিযানে ট্রাম্পের এ ধরনের বক্তব্য আরও আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সোমালি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক, মুসলিম রাজনীতিক এবং ডেমোক্র্যাট দলের কয়েকজন নেতাকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেছেন তিনি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদ এবং মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর। সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ওমর বর্তমানে দেশটির কংগ্রেস সদস্য।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও বক্তব্য

সমাবেশে ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে, কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (কেয়ার) ২০২৬ সালের নাগরিক অধিকারবিষয়ক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের অধিকার ও ইসলামবিদ্বেষের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে অভিবাসনবিরোধী নীতি এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির মতে, এসব পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য ও ইসলামবিদ্বেষ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G