সাইবার হামলার আশঙ্কায় ছয় ব্যাংকসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বন্ধ
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কবার্তা জারির পর বাংলাদেশের একাধিক ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক ও ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস), বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস), পেট্রোবাংলা এবং ভূমিসেবার ওয়েবসাইটও বন্ধ পাওয়া গেছে।
সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং নিজস্ব প্রযুক্তি অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।
বন্ধ রয়েছে ছয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট
বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার থেকেই নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আরও কয়েকটি ব্যাংকও তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা ছয়টি ব্যাংক হলো অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য সাইবার ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়েবসাইটগুলো আবার চালু করার কথা রয়েছে।
সাময়িকভাবে বন্ধ ভূমিসেবার ওয়েবসাইট
পিএইচপির নিরাপত্তা দুর্বলতা নিয়ে সতর্কতার মধ্যে ভূমি মন্ত্রণালয়ও ডিজিটাল ভূমিসেবার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেয়।
মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩৬ ঘণ্টা রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলার কথা ছিল। এ সময় land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে ভূমিসেবা নেওয়া সম্ভব হওয়ার কথা নয়।
পিএইচপির নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক করেছিল বিজিডি ই-গভ সার্ট
পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার নিরাপত্তা দুর্বলতা সম্পর্কে গত ২২ অক্টোবর জরুরি সতর্কবার্তা জারি করে সরকারের সাইবার নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সংস্থা বিজিডি ই-গভ সার্ট।
সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের সার্ভারে পিএইচপি ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা শনাক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যবহৃত পিএইচপি সংস্করণগুলো নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের ওয়েবসাইট ও সার্ভারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে কোথাও কোথাও ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি কেন উদ্বেগের?
পিএইচপি একটি বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে কাজে লাগে। তবে ব্যবহৃত সংস্করণে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকলে এবং সার্ভার যথাযথভাবে সুরক্ষিত না থাকলে সাইবার আক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
এ ধরনের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে আক্রমণকারীরা কোনো কোনো পরিস্থিতিতে ওয়েবসাইটের কার্যক্রম ব্যাহত করা, অননুমোদিত প্রবেশের চেষ্টা করা কিংবা সার্ভারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সুযোগ পেতে পারে। ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে নির্দিষ্ট ত্রুটি, ব্যবহৃত সংস্করণ এবং সংশ্লিষ্ট সার্ভারের নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।
এ কারণে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার ও সার্ভার পরীক্ষা করা, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা হালনাগাদ করা এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ওয়েবসাইট বন্ধ থাকার অর্থ এই নয় যে সেগুলো ইতিমধ্যে সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা নিরাপত্তা যাচাইয়ের কারণেও ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ


















