টানা ১৪ দিন কফি খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয় জানেন?

প্রকাশঃ মার্চ ৩১, ২০২৬ সময়ঃ ৩:০৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

অনেকের কাছে সকালে এক কাপ কফি ছাড়া দিন শুরুই কল্পনা করা যায় না। ঘুম ভাঙার পর কফির কাপে চুমুক যেন দিনের ছন্দ ঠিক করে দেয়। কেউ এটি পান করেন শক্তি বাড়াতে, আবার কারও মতে এটি হজমে সহায়ক। তবে সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, নিয়মিত কফি পান শরীরের জন্য আরও নানা দিক থেকে উপকার বয়ে আনতে পারে।

হার্ভার্ড ও স্ট্যানফোর্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. সৌরভ শেঠি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জানান, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিন কফি পান করলে শরীরে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে।

তার ব্যাখ্যায়, নিয়মিত কফি পান লিভারের সুস্থতায় সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এটি ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস এবং সিরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। অর্থাৎ লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্ভাবনা হ্রাস পেতে পারে। যদিও সুস্থ থাকার জন্য শুধু কফির ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়, তবুও এটি একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মেটাবলিজমে ইতিবাচক প্রভাব
কফিতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড শরীরের ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং চর্বি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে জমে থাকা ফ্যাট ভাঙার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। পাশাপাশি ক্ষুধা কিছুটা কমিয়ে ক্যালরি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করতে পারে।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক
ক্যাফেইন মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন ডা. শেঠি। পড়াশোনা বা দীর্ঘ সময় কাজের ক্ষেত্রে অনেকেই কফির ওপর নির্ভর করেন। যদিও এটি ঘুমের বিকল্প নয়, তবুও নির্দিষ্ট মাত্রায় ক্যাফেইন গ্রহণ মানসিক পারফরম্যান্স বাড়াতে সহায়তা করে।

হজম প্রক্রিয়ায় ভূমিকা
কফি অন্ত্রের গতিশীলতা বাড়িয়ে মলত্যাগ সহজ করতে পারে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ২৯ শতাংশ মানুষ কফি পান করার পর মলত্যাগের তাগিদ অনুভব করেন। কফির কিছু উপাদান গ্যাস্ট্রিন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে অন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে।

তবে সবার জন্য কফি সমান উপকারী নাও হতে পারে। বিশেষ করে যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কফি পেটে ব্যথা, গ্যাস বা ডায়রিয়ার সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই তাদের জন্য কফি সীমিত রাখা ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১ থেকে ৩ কাপ ব্ল্যাক কফি গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে যদি কফি পান করার ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, অস্থিরতা, অ্যাসিডিটি বা ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে পরিমাণ কমানো উচিত। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি বা প্রসেসড ক্রিমার ব্যবহার না করাই স্বাস্থ্যকর।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

20G