প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তির দাবি

প্রকাশঃ এপ্রিল ২, ২০২৬ সময়ঃ ৮:২৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২৫ অপরাহ্ণ

রাজধানীর শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক শওকত মাহমুদের মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে তার পরিবার। পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে, শওকত মাহমুদ মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং চলমান আইনি লড়াইয়ে পরিবারের অর্থনৈতিক দুর্দশাও চরমে পৌঁছেছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) তার বড় মেয়ে মেহেত মামুন এই চিঠি সংবাদ মাধ্যমে পাঠান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “আমার আব্বা শওকত মাহমুদ বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। চিকিৎসার খরচ এবং আইনি লড়াই সামলাতে গিয়ে আমরা অত্যন্ত সংকটে আছি। বিনীত প্রার্থনা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বাকে মুক্তির বিষয়ে সহায়তা করুন। তার যে কোনো অভিযোগের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করা হয়, তিনি কারাগারে মৃত্যুর দিকে যেতে পারেন।” চিঠির একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শওকত মাহমুদকে ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ‘উৎখাতের ষড়যন্ত্র’ অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। একই মামলায় মার্কিন নাগরিক এনায়েত করিম চৌধুরীও গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে শওকত মাহমুদকে রিমান্ডে নেওয়া হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি সাময়িক জামিন পান। পরে ১৬ মার্চ নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানির দিন ৩০ মার্চ নির্ধারণ করেন।

মামলায় বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির প্রতিরোধে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি সংগঠন গত ৫ আগস্ট আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটি জাতীয় ইতিহাস সংরক্ষণ ও দেশপ্রেমে মানুষকে একত্রিত করার লক্ষ্যে কাজ করত। ২৮ আগস্ট ঢাকার সেগুনবাগিচায় একটি গোল টেবিল বৈঠকের সময় একদল ব্যক্তি হট্টগোল করে অনুষ্ঠানের দরজা বন্ধ করে দেন এবং অংশগ্রহণকারীদের লাঞ্ছিত করেন।

চিঠিতে মেহেত মামুন আরও বলেন, “আমার আব্বা সারাজীবন জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করেছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের আদর্শ লালন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি বহুবার নিগ্রহের শিকার হয়েছেন, কিন্তু কখনো আপস করেননি। ৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ তাকে একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, যার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।”

শওকত মাহমুদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিঠিতে বলা হয়, তিনি ২০০৪ সালে ছয়টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালে দুটি স্টেন্ট এবং ২০২২ সালে আরও দুটি স্টেন্ট বসিয়েছেন। বর্তমানে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিওইপিডি, শ্বাসকষ্ট এবং চলনশক্তির দুর্বলতার মতো জটিল সমস্যায় ভুগছেন। ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছিল।

চিঠিতে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিনীত অনুরোধ করা হয়েছে, “আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে অবিলম্বে মুক্তি দিন এবং যে কোনো অভিযোগের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। যদি সময়মতো হস্তক্ষেপ না করা হয়, তার জীবনের নিরাপত্তা ও সুস্থতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

April 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
20G