মহাকাশে বিরল দৃশ্য, গ্রহাণু ভেঙে তৈরি হচ্ছে উল্কাবৃষ্টি

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৭, ২০২৬ সময়ঃ ১:৩৪ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

মহাকাশে বিরল এক ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সূর্যের প্রচণ্ড তাপে একটি বিশাল গ্রহাণু ধীরে ধীরে ভেঙে অসংখ্য টুকরোয় পরিণত হচ্ছে। গবেষকদের মতে, পৃথিবী যখন এই ধ্বংসাবশেষের মেঘের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন আকাশে মনোমুগ্ধকর উল্কাবৃষ্টি দেখা যাবে। ইতোমধ্যে ২৮২টি শুটিং স্টার বা উল্কার একটি গুচ্ছ শনাক্ত করা হয়েছে।

গবেষকদের ধারণা, এই উল্কাবৃষ্টি মহাকাশের একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে উৎপন্ন হচ্ছে। পাথুরে ধ্বংসাবশেষের এই স্তূপটি আসলে একটি মৃতপ্রায় গ্রহাণু, যাকে ‘রক কমেট’ হিসেবেও চিহ্নিত করা হচ্ছে। সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়ার ফলে গ্রহাণুটি ভেঙে টুকরো হয়ে গেছে।

NASA Johnson Space Center-এর বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার বলেন, এই আবিষ্কারটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার ভাষায়, একটি লুকানো গ্রহাণুকে সূর্যের তাপে ধ্বংস হয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিদিনই অসংখ্য ছোট মহাকাশ শিলা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠে উল্কায় পরিণত হয়।

বিজ্ঞানীরা জানান, যখন এসব কণা প্রতি সেকেন্ডে ১৫ মাইলের বেশি গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বাতাসের সঙ্গে সংঘর্ষে এগুলো বাষ্পীভূত হয়ে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি করে, যা খালি চোখেই দেখা সম্ভব। সাধারণত এই ধরনের কণা ধূমকেতু বা গ্রহাণু ভেঙে তৈরি হয়।

প্যাট্রিক শোবার আরও জানান, এই উল্কাবৃষ্টির উৎস একটি বিরল ধরনের বস্তু, যাকে রক কমেট বলা হয়। সাধারণত উল্কাবৃষ্টি ধূমকেতু থেকে সৃষ্টি হলেও, কোনো পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের খুব কাছাকাছি চলে গেলে সেটিও ধূমকেতুর মতো আচরণ করে ভেঙে যেতে পারে।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এই উল্কাগুলোর গঠন মাঝারি ভঙ্গুর হলেও ধূমকেতুর উপাদানের তুলনায় কিছুটা বেশি শক্ত। সূর্যের তাপে গ্রহাণুর বাইরের স্তর ফেটে যায় এবং ভেতরের গ্যাস বের হয়ে এসে পুরো গঠনটিকে ধ্বংস করে দেয়।

এই গ্রহাণুর কক্ষপথও বেশ ব্যতিক্রমধর্মী। এটি পৃথিবীর তুলনায় সূর্যের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি কাছাকাছি চলে যায়, যা এর ভেঙে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন এই উল্কাবৃষ্টির নাম রাখা হয়েছে ‘এম২০২৬ এ১’। প্রতিবছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি আকাশে দৃশ্যমান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G