যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হত্যাকান্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই কিশোরের মৃত্যু

প্রকাশঃ মে ২০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সান ডিয়েগো শহরের একটি ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর কাছাকাছি এলাকা থেকে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের ধারণা, হামলার সঙ্গে ওই দুজন জড়িত থাকতে পারে।

সোমবার সকালে ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগোতে গুলির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবনের সামনে তিনজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। নিহতদের মধ্যে মসজিদের একজন নিরাপত্তাকর্মীও ছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই নিরাপত্তাকর্মী হামলার সময় অন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিলেন। সান ডিয়েগো পুলিশের প্রধান স্কট ওয়াহ্ল বলেন, তার সাহসী ভূমিকার কারণে আরও বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

ঘটনার কিছু সময় আগে এক নারী পুলিশকে জানান, তার ছেলে বাড়ি থেকে কয়েকটি অস্ত্র ও একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, ছেলের সঙ্গে আরেকজন ছিল এবং তারা সামরিক ধাঁচের পোশাক পরেছিল।

হামলার পর কাছাকাছি এলাকায় গাড়ি থেকে গুলি চালানোর আরেকটি খবর পায় পুলিশ। পরে দ্বিতীয় ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি গাড়ির ভেতর ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্মকর্তাদের ধারণা, তারা নিজেদের গুলি করেছে।

তদন্তকারীরা জানান, ঘটনাটির পেছনের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। তবে হামলার লক্ষ্য ছিল কাউন্টির অন্যতম বড় মসজিদ এবং সন্দেহভাজনদের একজনের রেখে যাওয়া নোটে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পাওয়ায় ঘটনাটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নোটে সাধারণ বিদ্বেষপূর্ণ ভাষা থাকলেও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা স্থানের বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি ছিল না।

ঘটনার সময় ইসলামিক সেন্টারের ভেতরে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল। কারণ সেখানে আল রশিদ স্কুল নামে একটি শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আশপাশের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি আধা-স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের মতো শব্দ শুনেছেন এবং কয়েক দফায় গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়।

ঘটনার তদন্তে সহায়তার জন্য জনগণের কাছে তথ্য চেয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই।

সান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক তাহা হাসান বলেন, উপাসনালয়ে হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তার ভাষায়, “এটি শান্তিপূর্ণ প্রার্থনার জায়গা, সহিংসতার নয়।”

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গাভিন নিউসম ঘটনাটিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা বরদাশত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

সর্বশেষ সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G