লক্ষ্মীপুরে রহস্যময় শামুকের দাপট, সন্ধ্যা নামলেই বাড়ছে আতঙ্ক
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের পাঁচটি বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এক ধরনের অজানা প্রজাতির শামুকের ব্যাপক উপদ্রব দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত এক মাস ধরে প্রতিদিন সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে শত শত ছোট-বড় শামুক বাড়ির আঙিনা, দেয়াল, গাছপালা ও চলাচলের পথে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব শামুক সবজি ও ফলগাছের কচি পাতা এবং লতা খেয়ে ফেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অনেকেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে কৃষির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
জানা গেছে, পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা বাড়ি, দুর্গাবাড়ি, কালীবাড়ি, ছিঠা ডাক্তার বাড়িসহ মোট পাঁচটি বাড়ি এবং আশপাশের এলাকায় এ উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। সহস্রাধিক মানুষের বসবাস থাকা এসব এলাকায় সন্ধ্যার পর মাটির ওপর, দেয়ালে, গাছের পাতায় এমনকি বসতবাড়ির আঙিনাতেও অসংখ্য শামুকের দেখা মিলছে।
বাসিন্দারা জানান, দিনের বেলায় শামুকগুলো খুব একটা চোখে পড়ে না। তবে সূর্য ডোবার পরই এগুলো বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় এক বছর আগে অল্পসংখ্যক শামুক দেখা গেলেও সম্প্রতি দ্রুত বংশবিস্তার করায় তাদের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
কালীবাড়ি এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আগে গুইসাপ, বেজিসহ বিভিন্ন প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করত এবং অনেক ক্ষতিকর প্রাণী নিয়ন্ত্রণে রাখত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে এসব প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় এখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সমসেরাবাদ এলাকার দলিল লেখক কেশব দাস বলেন, ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকে এলাকায় এ ধরনের শামুক দেখা যেতে শুরু করে। তবে গত এক মাসে তাদের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের চলাফেরা নিয়ে পরিবারগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম বলেন, এটি কৃষির জন্য ক্ষতিকর একটি শামুকের প্রজাতি। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি শামুক হাতে সংগ্রহ করে দূরে ফেলে দেওয়া এবং ডিমের খোসা বা কাঠের গুঁড়ো ছিটিয়ে রাখলে এর বিস্তার অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রতি / এডি / শাআ













