দীর্ঘ সময় শুয়ে থেকেও ঘুম হচ্ছে না যে ভিটামিনের অভাবে

প্রকাশঃ আগস্ট ২৮, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৪৪ অপরাহ্ণ

শরীর ও মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমকে সাধারণত পর্যাপ্ত ধরা হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনের তুলনায় কম ঘুম হলে ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতিসহ শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়তে পারে।

তবে অনেকের ক্ষেত্রেই রাতে বিছানায় যাওয়ার পর সহজে ঘুম আসে না। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা শুয়ে থেকেও ঘুমের দেখা পান না। অনিদ্রার এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে এসব ওষুধ গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে।

ঘুমের সমস্যার পেছনে মানসিক চাপ, জীবনযাপনের অনিয়মসহ নানা কারণ থাকতে পারে। এর পাশাপাশি শরীরে কিছু ভিটামিনের ঘাটতিও ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। কোন কোন ভিটামিনের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

ভিটামিন ডি

ভিটামিন ডি মূলত হাড় ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই ভিটামিনের পর্যাপ্ততা ঘুমের মানের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। সূর্যের আলো ভিটামিন ডির অন্যতম প্রাকৃতিক উৎস। পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ, ডিম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ দুধসহ বিভিন্ন খাবার থেকেও এটি পাওয়া যায়।

ভিটামিন ই

ভিটামিন ই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ই থাকা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ঘুমের মানের সঙ্গেও এর সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, পালং শাক, ব্রকলি ও টমেটোতে ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

ভিটামিন সি

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভিটামিন সির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবেও কাজ করে। পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। কমলা, লেবু ও অন্যান্য টকজাতীয় ফলের পাশাপাশি বিভিন্ন শাকসবজি থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যায়।

ভিটামিন বি-৬

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় ভিটামিন বি-৬ প্রয়োজন হয়। ঘুম নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু রাসায়নিক উপাদান তৈরিতেও এ ভিটামিন ভূমিকা রাখে। তাই শরীরে এর ঘাটতি থাকলে ঘুমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। কলা, গাজর, আলু, ডিম, মাছ, পালং শাক ও গোটা শস্য ভিটামিন বি-৬-এর ভালো উৎস।

ভিটামিন বি-১২

স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও রক্তকণিকা তৈরির জন্য ভিটামিন বি-১২ গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ঘুমের ধরনেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ও অন্যান্য প্রাণিজ খাবার ভিটামিন বি-১২-এর উল্লেখযোগ্য উৎস।

তবে ঘুমের সমস্যা হলেই যে নির্দিষ্ট কোনো ভিটামিনের ঘাটতি রয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে এর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিটামিনের ঘাটতি নির্ণয় করা উচিত।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G