নদীর বুকে বসে জমজমাট ভাসমান বাজার, ৪ ঘণ্টায় কেনাবেচা ৭০ লাখ টাকা
ভোরের আকাশে আলো ফুটতে না ফুটতেই বেলুয়া নদীর বুক বদলে যেতে শুরু করে। দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে একের পর এক নৌকা এসে জড়ো হয় নদীর নির্দিষ্ট অংশে। কোনো নৌকায় থাকে নানা ধরনের শাকসবজি, কোথাও ধান-চাল, আবার কোনো নৌকা ভর্তি থাকে আখ, নারিকেল, ফলমূল কিংবা অন্যান্য কৃষিপণ্যে। নৌকাগুলো নদীর ওপর ভাসতে ভাসতেই পরিণত হয় ছোট ছোট দোকানে।
এক নৌকা থেকে আরেক নৌকায় চলে ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম। কেউ পাইকারি দরে সবজি কিনছেন, কেউ আবার নিজের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এসেছেন বিক্রি করতে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নদীর একটি অংশ পরিণত হয় ব্যস্ত বাণিজ্যকেন্দ্রে। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড় ও নৌকার সংখ্যা। আবার বেলা বাড়ার আগেই ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় কেনাবেচা।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারসংলগ্ন বেলুয়া নদীতে বসে এই ব্যতিক্রমী ভাসমান হাট। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দুই দিনে—শনিবার ও মঙ্গলবার—খুব ভোরে শুরু হয় বাজারের কার্যক্রম। কয়েক ঘণ্টা জমজমাট বেচাকেনার পর সকাল গড়িয়ে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌকাগুলো একে একে নদী ছেড়ে যেতে শুরু করে।
নদী ও নৌকাকেন্দ্রিক এই জীবনযাত্রার কারণে স্থানীয়দের কাছে বৈঠাকাটা বাজারের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে। জলপথকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইতালির ভেনিস শহরের সঙ্গে অনেকেই এই বাজারের তুলনা করেন। এ কারণে বৈঠাকাটা বাজারকে স্থানীয়ভাবে ‘বাংলার ভেনিস’ নামেও ডাকা হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য বাজার
বৈঠাকাটা শুধু একটি ভাসমান হাট নয়, দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি উপজেলার মানুষের জন্য এটি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। পিরোজপুরের নাজিরপুর ও নেছারাবাদ এবং বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার কৃষক, ব্যবসায়ী ও পাইকারদের মধ্যে পণ্য কেনাবেচার বড় একটি মাধ্যম এই বাজার।
নাজিরপুর উপজেলা সদর থেকে বাজারটির দূরত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। নাজিরপুরের অংশে বেলুয়া নদীর প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মূলত বাজারের কার্যক্রম চলে।
শনিবার ও মঙ্গলবার ভোর হওয়ার আগেই আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা নৌকায় করে বাজারে আসতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাইকার ও স্থানীয় ক্রেতারা। সূর্য ওঠার পরপরই নদীর ওপর বাড়তে থাকে নৌকার সংখ্যা। অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর বুকজুড়ে তৈরি হয় ব্যস্ত বাণিজ্যিক পরিবেশ।
বাজারের বেচাকেনা সাধারণত খুব বেশি সময় ধরে চলে না। তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ পণ্য হাতবদল হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনেক নৌকা আবার নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে শুরু করে। ফলে কয়েক ঘণ্টার এই বাজার শেষ হওয়ার পর বেলুয়া নদী আবার আগের মতো শান্ত হয়ে যায়।
বিভিন্ন গ্রামের কৃষকের পণ্য আসে নৌকায়
নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া, মুগারঝোর, মনোহরপুর, পদ্মডুবি, বিলডুমুরিয়া, সোনাপুর, গাওখালী, চাঁদকাঠি, সাচিয়া, লড়া ও পেনাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এই বাজারে আসেন।
এ ছাড়া নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া, গগন, মলুহার, কাঁটাখালী, ইলুহার ও জনতাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকেও কৃষক ও ব্যবসায়ীরা এখানে পণ্য নিয়ে আসেন। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি, উমারেরপাড়, উদয়কাঠী, কদমবাড়ি ও চৌমোহনাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষও এই বাজারের সঙ্গে যুক্ত।
কৃষকেরা মূলত নৌকাকে পরিবহনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেন। একই নৌকা আবার বাজারে পৌঁছে তাদের বিক্রির জায়গাও হয়ে যায়। ফলে আলাদা দোকান বা স্থায়ী বাজারঘরের প্রয়োজন পড়ে না।
কী কী পণ্য পাওয়া যায়
বৈঠাকাটার ভাসমান বাজারে কৃষিপণ্যের বৈচিত্র্য চোখে পড়ার মতো। মৌসুম অনুযায়ী পণ্যের তালিকায় পরিবর্তন এলেও প্রায় সব সময়ই বিভিন্ন ধরনের সবজি ও কৃষিপণ্য পাওয়া যায়।
বরবটি, কুমড়া, পুঁইশাক, করলা, পটল, কাঁকরোল, কাঁচকলা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, শালগম, কচু, চালকুমড়া, নারিকেল ও কলার মতো পণ্য নিয়মিত কেনাবেচা হয়। এর পাশাপাশি শাপলা, সবজির চারা এবং বিভিন্ন কৃষিকাজে ব্যবহৃত উপকরণও পাওয়া যায়।
ভোরের দিকে ছোট ডিঙি নৌকায় করে কৃষকেরা পণ্যের পসরা সাজিয়ে নদীতে এসে পৌঁছান। অন্যদিকে পাইকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আগেই বাজারে উপস্থিত থাকেন। ফলে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় দ্রুতগতির কেনাবেচা।
শুধু কৃষিপণ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই ভাসমান হাট। নদীর ওপর নৌকায় তৈরি হয় চায়ের দোকান, পিঠার দোকান এবং বিভিন্ন ধরনের খাবারের অস্থায়ী দোকানও। বাজারের কয়েক ঘণ্টায় নদীর বুকজুড়ে তাই তৈরি হয় একটি পূর্ণাঙ্গ জনপদের মতো পরিবেশ।
প্রতি হাটে লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা
ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ সময়ে প্রতি হাটে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকার কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়। তবে মৌসুমের ওপর নির্ভর করে এই অঙ্ক অনেকটাই পরিবর্তিত হয়।
বিশেষ করে তরমুজের মৌসুমে বেলুয়া নদীর চিত্র আরও বদলে যায়। তখন নদীর ওপর সারি সারি তরমুজবোঝাই নৌকা দেখা যায়। তরমুজের বড় চালান আসার সময় বাজারের মোট লেনদেন এক থেকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ধারণা।
সাধারণ সময়েও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য হাতবদল হয়। পাইকাররা এসব পণ্য কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে নিয়ে যান। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের একটি অংশ দেশের বাইরের বাজারেও যায় বলে জানা যায়।
এ কারণে বৈঠাকাটা বাজার শুধু স্থানীয় কৃষকদের পণ্য বিক্রির জায়গা নয়; এটি আঞ্চলিক কৃষিপণ্য সরবরাহ ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভাসমান কৃষির সঙ্গে বাজারটির গভীর সম্পর্ক
বৈঠাকাটা বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কৃষিপণ্যের পাশাপাশি ভাসমান কৃষির উপকরণও বিক্রি হয়।
দক্ষিণাঞ্চলের খাল-বিল ও জলাভূমিপ্রধান এলাকায় বহু বছর ধরে পানির ওপর ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি ও চারা উৎপাদনের প্রচলন রয়েছে। এ ধরনের বেড তৈরিতে বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ ব্যবহার করা হয়।
কচুরিপানা, তেঁপাপোনা, দুলালিলতা, ফেনাসহ নানা ধরনের জলজ উদ্ভিদ একত্র করে তৈরি করা হয় ভাসমান কৃষির বেড। একসময় যেসব উদ্ভিদকে অনেকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করতেন, সেগুলোই এখন কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণে পরিণত হয়েছে।
বৈঠাকাটা বাজারে এসব উপকরণেরও নিয়মিত কেনাবেচা হয়। দূরবর্তী এলাকা থেকে মানুষ নদীপথে জলজ উদ্ভিদ নিয়ে এসে বিক্রি করেন। অন্যদিকে ভাসমান কৃষির সঙ্গে যুক্ত কৃষকেরা সেগুলো কিনে নিজেদের চাষের কাজে ব্যবহার করেন।
ফলে কৃষি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের দুটি ধাপই এখানে নদীকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে।
ভাসমান বেডে সবজি উৎপাদন
জলাবদ্ধ বা পানিতে ডুবে থাকা জমিকে কাজে লাগানোর জন্য স্থানীয় কৃষকেরা ভাসমান বেড তৈরি করেন। এসব বেডের ওপর বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি এবং সবজির চারা উৎপাদন করা হয়।
চাষাবাদ শেষে উৎপাদিত পণ্য অনেক সময় নৌপথেই বৈঠাকাটা বাজারে আনা হয়। আবার বাজার থেকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণও নৌকায় করে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।
অর্থাৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং বিক্রির বড় একটি অংশই এখানে নদী ও নৌকার ওপর নির্ভরশীল। এই বৈশিষ্ট্যই বাজারটিকে দেশের অন্যান্য সাধারণ বাজার থেকে আলাদা করেছে।
বহু বছরের পুরোনো বাণিজ্যকেন্দ্র
বৈঠাকাটা বাজারের সঠিক প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। তবে স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, বাজারটির বয়স বহু দশকের। কয়েক প্রজন্ম ধরে এই নদীকেন্দ্রিক হাটে কৃষিপণ্য কেনাবেচা হয়ে আসছে।
স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতেও বাজারটির দীর্ঘ ইতিহাসের কথা উঠে আসে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের প্রজন্মের কৃষকেরাও নৌকায় করে পণ্য নিয়ে এসে এখানে বিক্রি করতেন।
তবে বাজারটির বয়স নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে। কেউ এটিকে সাত দশকের বেশি পুরোনো বলে মনে করেন, আবার কারও ধারণা এর ইতিহাস আরও দীর্ঘ। সুনির্দিষ্ট নথি না থাকায় প্রতিষ্ঠার সময়কাল নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।
তবে বয়স নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বাজারটির দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।
বাজার দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা
বৈঠাকাটা বাজারের অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এর রয়েছে আলাদা দর্শনীয় আকর্ষণ। বাজার বসার দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নদীর বুকে নৌকার সারি দেখতে আসেন।
একদিকে শত শত নৌকায় সাজানো সবজি ও কৃষিপণ্য, অন্যদিকে নৌকায় নৌকায় ক্রেতা-বিক্রেতার দরদাম—সব মিলিয়ে তৈরি হয় অনন্য এক দৃশ্য।
বিশেষ করে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত নদীর ওপর যে কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়, তা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। স্থানীয় জীবনযাত্রা, নদীকেন্দ্রিক বাণিজ্য এবং গ্রামীণ কৃষির সমন্বয়ে বাজারটি একটি স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।
পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা
বৈঠাকাটা বাজারকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাও রয়েছে। নদীর বুকজুড়ে নৌকার সারি, স্থানীয় কৃষিপণ্যের বেচাকেনা, ভাসমান কৃষি এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী জীবনধারা—সব মিলিয়ে এটি গ্রামীণ পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হতে পারে।
স্থানীয়ভাবে আয়োজিত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানও বাজারটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক আয়োজন ও নৌকাভিত্তিক উৎসবের সময় দুই তীরেই তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ।
তবে পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কিছু মৌলিক অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রয়োজন। যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং পরিকল্পিত পর্যটনসুবিধা না থাকায় বর্তমানে সম্ভাবনাটি পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
যোগাযোগব্যবস্থাও বড় চ্যালেঞ্জ
বৈঠাকাটা বাজারের সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত থাকলেও বাজারটিকে ঘিরে কিছু সমস্যাও রয়েছে। যোগাযোগব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নৌপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ কিছু ক্ষেত্রে কমেছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
অন্যদিকে বাজারটির পর্যটন সম্ভাবনা থাকলেও পর্যটকদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা এখনও গড়ে ওঠেনি। থাকার জায়গা, উন্নত সড়ক যোগাযোগ এবং পরিকল্পিত পর্যটন অবকাঠামো তৈরি করা গেলে দর্শনার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বছরে কয়েক দশ কোটি টাকার বাণিজ্য
কৃষি বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠাকাটা বাজারে শাকসবজি, ফলমূল, সবজির চারা এবং চারা উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণের নিয়মিত বেচাকেনা হয়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দুই দিনে ভোরে বাজার বসে এবং আশপাশের বহু এলাকার কৃষক ও পাইকার সেখানে অংশ নেন।
সারাবছরের লেনদেন বিবেচনায় বাজারটিতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয়ে থাকে বলে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের ধারণা।
এ বাজারকে ঘিরে শুধু কৃষক ও পাইকারই নন, নৌযানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মী, খাবারের দোকানি এবং বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানকারী মানুষও জীবিকার সুযোগ পান।
ফলে বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার স্থানীয় অর্থনীতির একটি বড় অংশকে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে সচল রাখছে।
নদীর সঙ্গে মিশে থাকা এক অনন্য বাজার
বেলুয়া নদীর বুকে কয়েক ঘণ্টার জন্য গড়ে ওঠা বৈঠাকাটা বাজার মূলত দক্ষিণাঞ্চলের নদীভিত্তিক জীবনযাত্রার একটি জীবন্ত উদাহরণ। এখানে নদী শুধু যাতায়াতের পথ নয়; একই সঙ্গে এটি বাজার, পরিবহনব্যবস্থা এবং কৃষিপণ্য বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
কৃষকের উৎপাদিত পণ্য নৌকায় উঠে আসে, নদীর ওপরই তার বিক্রি হয় এবং সেখান থেকে পাইকারদের মাধ্যমে চলে যায় বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে। আবার ভাসমান কৃষির প্রয়োজনীয় উপকরণও একই নদীপথে বাজারে আসে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় নদী ও নৌকা যেন বাণিজ্য ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
তাই বৈঠাকাটা ভাসমান বাজার কেবল কয়েক ঘণ্টার একটি হাট নয়। এটি বহু বছরের কৃষি ঐতিহ্য, নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতি, নৌযাত্রা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি স্বতন্ত্র বাণিজ্যকেন্দ্র। যথাযথ যোগাযোগব্যবস্থা ও পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে এই নদীর বুকের বাজারটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় গ্রামীণ পর্যটন ও কৃষি-বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে আরও পরিচিতি পেতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ
























