সরকার গঠনে গাদি বা নেতানিয়াহুকে দ্বারস্থ হতে হবে আরব দলগুলোর
ইসরায়েলের ২০২৬ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। চূড়ান্ত ফলাফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী জোটের ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন। ফলে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে চলে এসেছে আরব রাজনৈতিক দলগুলো।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ফলাফলের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান দুই জোটের কেউই সেই সংখ্যা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেয়েছে। ফলে তাদের সমর্থন কিংবা বিরোধিতা সরকার গঠনের চূড়ান্ত হিসাব পাল্টে দিতে পারে। এ কারণে এবারের নির্বাচনে আরব দলগুলোর অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে ২৭টি আসন পেয়ে নেসেটের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তবে দলটির এই সাফল্য সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট হয়নি।
নেতানিয়াহুর সামনে বাড়ছে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ
নেতানিয়াহু ক্ষমতা হারালে তাঁকে একাধিক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির অভিযোগের বিচারপ্রক্রিয়ায় তাঁকে আরও বেশি জবাবদিহি করতে হতে পারে। এ ছাড়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে চালানো হামলার সময় দেশটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় কী ধরনের দুর্বলতা ছিল, তা খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আরব দলগুলোর সমর্থন পেতে বিরোধীদের তৎপরতা
আরব দলগুলো সরাসরি কোনো সরকারি জোটে যুক্ত না হলেও পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুবিরোধী পক্ষকে সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে। নতুন সরকার গঠনের আগেই স্পিকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন সংসদীয় সিদ্ধান্তে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এর মাধ্যমে পার্লামেন্টের কার্যক্রম ও আইন পাসের প্রক্রিয়ায়ও প্রভাব রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এবং ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট শর্তসাপেক্ষে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আরব দলগুলোর জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা আহমদ তিবি আর্মি রেডিওকে জানিয়েছেন, নতুন স্পিকার নিয়োগের বিষয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিরোধী জোটের মনোনীত প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে আরব দলগুলো।
নির্বাচন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
নেতানিয়াহুর জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তাঁর দল কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই অভিযোগ করেছে, বিদেশি শক্তির সহায়তায় আরব দলগুলো নির্বাচনে কারচুপি করেছে। তবে বিরোধী দলগুলো এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরব জনগোষ্ঠীকে হেয় করা এবং নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলেছে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠনের বিষয়টি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আরব দলগুলোর অবস্থানের ওপর। তবে রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারলে আগামী বছরের শুরুর দিকে দেশটিতে আবারও জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ























