ক্লাসে ফিরছে চুয়েট শিক্ষার্থীরা, তবে নতুন ভিসি ঠেকাতে তাদের অবস্থান অনড়
দীর্ঘ ৩৬ দিনের শাটডাউন কর্মসূচির পর একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে ক্লাসে ফেরার প্রস্তুতির মধ্যেও নতুন উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে বিরোধ কাটেনি। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কথা রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাঁচ সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটির। এ সময় নতুন উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না দেওয়ার লক্ষ্যে মূল ফটকে অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন আন্দোলনকারীরা।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানান, কোন বিভাগ কবে থেকে ক্লাস শুরু করবে, সে সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজেরাই নেবে। একাডেমিক কার্যক্রম চালুতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। তবে নতুন উপাচার্যকে মেনে নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরিফুল আলম জানিয়েছেন, সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেই তিনি চুয়েটে যোগ দিতে যাবেন। এ ক্ষেত্রে কেউ তাঁকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দুই পক্ষের এমন বিপরীত অবস্থানের মধ্যেই রোববার রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বুধবার থেকে একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে বাস্তবে ক্লাস শুরু হবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। স্নাতক পর্যায়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে ১১টির বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্লাস শুরুর বিষয়ে তাঁরা এখনো নিশ্চিত নন।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর জানান, শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক আবেদন পাননি তাঁরা। কোর্স সমন্বয়কের মাধ্যমে আবেদন জমা পড়লে তা পর্যালোচনা করে ক্লাস শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অচলাবস্থা নিরসনে ইউজিসির পরামর্শক কমিটি
চুয়েটে চলমান সংকটের সমাধান এবং নিয়মিত শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সুপারিশ দিতে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যাচ্ছে ইউজিসির পাঁচ সদস্যের পরামর্শক কমিটি। সকাল ১০টায় ক্যাম্পাস পরিদর্শনের পর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আলাদাভাবে মতবিনিময় করবেন কমিটির সদস্যরা।
ইউজিসির পরিদর্শন ও মনিটরিং শাখার চিঠিতে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা হবে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মতামত নেওয়া হবে। দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে এবং বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আহসান উল্লাহ বলেন, আপাতত একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে শিক্ষক সমিতি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন
গত ২১ সেপ্টেম্বর চুয়েটের তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ নিয়োগের প্রতিবাদে পরদিন, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে অংশ নিয়ে আন্দোলনে যুক্ত হন। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর শিক্ষার্থীরা একাডেমিক কার্যক্রমে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেও নতুন উপাচার্যের নিয়োগ নিয়ে বিরোধ এখনো মীমাংসিত হয়নি। ফলে ক্লাস শুরুর উদ্যোগের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেও নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
প্রতি / এডি / শাআ























