বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে সৌদি আরব, খুলছে লাখ লাখ কর্মসংস্থানের দুয়ার

প্রকাশঃ জুন ২৬, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৭ অপরাহ্ণ

২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ সৌদি আরব। এই আসরকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন নির্মাণ, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং সেবা খাতে বড় আকারের প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এসব প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সুযোগ কাজে লাগাতে পাকিস্তান সরকার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। দেশটির লক্ষ্য, আগামী কয়েক বছরে সৌদি আরবের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে তিন থেকে চার লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানো। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে সৌদি আরবে নির্মাণ, অবকাঠামো, বিমান পরিবহন, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে শ্রমশক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এই সম্ভাবনাকে সামনে রেখে কর্মীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দুই লাখের বেশি কর্মীকে বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় আচরণগত দক্ষতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পাকিস্তানের অর্থনীতিতে জনশক্তি রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে কোটি কোটি পাকিস্তানি কর্মী বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এর বেশিরভাগই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে কর্মরত, যেখানে সৌদি আরব অন্যতম প্রধান গন্তব্য।

বিশেষ করে সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পর দেশটিতে বিদেশি কর্মীদের চাহিদা বেড়েছে। এর ফলে পাকিস্তান থেকেও কর্মী নিয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদিতে পাকিস্তানি শ্রমিকদের উপস্থিতি নতুন রেকর্ড গড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপের শ্রমবাজারেও প্রবেশের চেষ্টা জোরদার করেছে পাকিস্তান। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে বৈধ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান বিষয়ে আলোচনা চলছে। ইতালি ইতোমধ্যে পাকিস্তানি কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কোটা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি জার্মানি ও গ্রিসের সঙ্গেও দক্ষ কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে যাচ্ছে।

বিদেশগামী কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে পাকিস্তান সরকার ডিজিটাল মানবসম্পদ ডাটাবেজ ও বায়োমেট্রিক যাচাই ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩৪ বিশ্বকাপকে ঘিরে সৌদি আরবে যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত করতে পারলে এ সুযোগ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G