কোন ব্যাংকে টাকা রাখা নিরাপদ, কোন ব্যাংক ঝুঁকি জানুন বিস্তারিত
ব্যাংকে জমা রাখা টাকা উত্তোলন নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়ে আমানত ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে ব্যাংক শাখায় বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় সাম্প্রতিক গ্রাহক অসন্তোষ বিষয়টি আবারও আলোচনায় এনেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টাকা রাখার জন্য কোন ব্যাংক আসলে বেশি নিরাপদ?
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থাই এখনো সঞ্চয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। তবে সব ব্যাংকের আর্থিক অবস্থান একরকম নয়। তাই সঠিক ব্যাংক নির্বাচন এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেশের ব্যাংক খাতের বর্তমান বাস্তবতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত এখন পরিবর্তন ও চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু ব্যাংক শক্ত অবস্থানে থাকলেও কিছু ব্যাংক তুলনামূলকভাবে দুর্বল। ফলে আমানতকারীদের সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
পারফরম্যান্সে এগিয়ে থাকা কিছু ব্যাংক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩১টি ব্যাংকের মধ্যে সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থিতিশীলতা ও পারফরম্যান্সে কয়েকটি ব্যাংক তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক (ইবিএল), প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক এবং ডাচ-বাংলা ব্যাংক।
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় আরও কিছু ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে ভালো করছে। যেমন—মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক।
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ব্যাংক
বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, মূলধন শক্তি, খেলাপি ঋণের হার ও তারল্য বিবেচনায় বিশেষজ্ঞরা কিছু ব্যাংককে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হিসেবে দেখছেন।
বেসরকারি খাত: ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ব্যাংকগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে, কারণ প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সহায়তা পাওয়া যায়।
সঞ্চয় স্কিমে লাভ ও নিরাপত্তার ভারসাম্য
উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সঞ্চয় ধরে রাখা চ্যালেঞ্জ হলেও নিয়মিত ছোট সঞ্চয় দীর্ঘমেয়াদে বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কিছু স্কিমকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ধরা হয়, যদিও রিটার্ন বাজারভিত্তিক বিনিয়োগের চেয়ে কম হতে পারে।
ব্যাংক বাছাইয়ের সময় কী দেখবেন
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা বলছেন, শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং নিচের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত—
- ব্যাংকের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন
- বাংলাদেশ ব্যাংকের রেটিং ও নজরদারি
- তারল্য ও লেনদেন সক্ষমতা
- গ্রাহক সেবা ও ব্যাংকের সুনাম
বাস্তব পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকি কমাতে একাধিক ব্যাংকে সঞ্চয় ভাগ করে রাখা একটি ভালো কৌশল হতে পারে। এতে একটি ব্যাংকে সমস্যা হলেও পুরো সঞ্চয় ঝুঁকিতে পড়ে না।
সব মিলিয়ে, অর্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে সচেতন সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিশালী ও সুপরিচালিত ব্যাংকে সঞ্চয় রাখাই এখন সবচেয়ে বাস্তবসম্মত নিরাপত্তার উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













