মানুষ দেখলেই বিড়াল কেন মিউ মিউ করে, জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

প্রকাশঃ মে ৮, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

আজকের ঘরোয়া আদুরে বিড়াল একসময় ছিল পুরোপুরি বন্য প্রাণী। হাজার হাজার বছর আগে তারা মানুষের কাছাকাছি থাকত না, বরং একাই শিকার করে জীবন কাটাতে পছন্দ করত। তখন বিড়ালদের মধ্যে খুব বেশি ডাকাডাকির অভ্যাসও ছিল না। সাধারণত মা বিড়াল আর তার ছানাদের মধ্যেই সীমিত ছিল এই যোগাযোগ।

প্রায় ১০ হাজার বছর আগে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মানুষের সংরক্ষণ করা শস্যের টানে ইঁদুরের সংখ্যা বাড়ে, আর সেই ইঁদুর শিকারের সুযোগে কিছু বুনো বিড়াল মানুষের বসতির আশপাশে ঘোরাফেরা শুরু করে। ধীরে ধীরে মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক তৈরি হয় এবং একসময় তারা মানুষের ঘরেই জায়গা করে নেয়।

গবেষকদের মতে, মানুষের সঙ্গে বসবাস শুরু করার পর বিড়াল আবার ছোটবেলার সেই ‘মিউ মিউ’ ডাক ব্যবহার করতে শুরু করে। কারণ, মানুষকে তারা অনেকটা নিজের যত্নকারীর মতোই দেখে। মূলত মানুষের মনোযোগ পাওয়ার জন্যই এ ধরনের ডাক দেয় তারা।

বিড়ালের পোষ মানার গল্প কুকুরের মতো নয়। কুকুরকে মানুষ নিজ প্রয়োজনেই শিকার ও পাহারার কাজে ব্যবহার করতে বেছে নিয়েছিল। কিন্তু বিড়ালের ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো ঘটনা। যেসব বিড়াল মানুষকে কম ভয় পেত এবং মানুষের আশপাশে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করত, তারাই ধীরে ধীরে টিকে যায়। নিরাপদ আশ্রয় ও সহজে খাবার পাওয়ার সুবিধা তাদের আরও মানুষের ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাণীদের আচরণ কীভাবে বদলে যায়, তার বড় উদাহরণ রাশিয়ার একটি গবেষণা। ১৯৫০ সালে প্রাণীবিদ দিমিত্রি বেলিয়ায়েভ শান্ত স্বভাবের রুপালি শিয়াল বেছে নিয়ে প্রজনন করান। কয়েক প্রজন্ম পর দেখা যায়, শিয়ালগুলো মানুষের প্রতি অনেক বেশি বন্ধুসুলভ হয়ে উঠেছে। এমনকি তাদের শারীরিক গঠন ও শব্দ করার ধরনেও পরিবর্তন এসেছে।

বিড়ালের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে বলে ধারণা করা হয়। সময়ের সঙ্গে মানুষের আশপাশে থাকা বিড়ালগুলোর স্বভাব আরও কোমল হয়েছে এবং তারা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিশেষ ধরনের ডাক ব্যবহার করতে শুরু করেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বিড়ালের ডাক অনেক সময় মানুষের শিশুর কান্নার মতো শোনায়। ২০০৯ সালে গবেষক ক্যারেন ম্যাককম্বের এক গবেষণায় বলা হয়, খাবার চাইলে বিড়ালের ডাকে এক ধরনের উচ্চ-পিচের সুর থাকে, যা মানুষের কানে শিশুর কান্নার মতো লাগে। ফলে মানুষ সহজেই এ ডাকে সাড়া দেয়।

শুধু বিড়াল নয়, মানুষও পোষা প্রাণীদের সঙ্গে কথা বলার ধরন বদলে ফেলেছে। শিশুদের সঙ্গে যেভাবে আদুরে কণ্ঠে কথা বলা হয়, পোষা প্রাণীদের সঙ্গেও অনেকে একইভাবে কথা বলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালেরা খুব ভালোভাবেই বুঝতে পারে কখন তাদের উদ্দেশ করে কথা বলা হচ্ছে, বিশেষ করে নিজের মালিকের কণ্ঠ তারা সহজেই চিনতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G