চট্টগ্রামে জঙ্গী সন্দেহে আটক ২৫

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২০, ২০১৫ সময়ঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো, প্রতিক্ষণ ডট কম

Ctg-photo-211চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার আলীপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘জঙ্গী’ সন্দেহে আটক হওয়া ২৫ জনের মধ্যে ১২ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে র‌্যাব।

শুক্রবার বিকেলে পতেঙ্গায় র‌্যাব-৭ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি করা হয়।

আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৭  এর উপ অধিনায়ক মেজর জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য রাখলেও অধিকাংশ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন অধিনায়ক লে.কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

আটকদের বিরুদ্ধে শুধুমাত্র জিহাদে উদ্ধুব্ধকরণের জন্য বিভিন্ন জঙ্গীদের ভিডিও ফুটেজ পাওয়ায় তাদের ‘ডিজিটাল জঙ্গী’ দাবি করলেও তাদের কারা জড়ো করেছে? এর পেছনে কারা কাজ করছে? এর পৃষ্টপোষক কারা ? এদের প্রশিক্ষকই বা কে ? তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ কি ? আটকদের মধ্যে কে প্রশিক্ষক? কে প্রশিক্ষাণার্থী ? এধরণের গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে পারেননি আটককারী সংস্থা র‌্যাব-৭ এর কর্মকর্তারা।

বৃৃহস্পতিবার বিকেলে জঙ্গী সন্দেহে আলীপুরের একটি মাদ্রাসা ও উপজেলা সদর থেকে একটি ইসলামিক একাডেমিক থেকে মোট ২৫ জনকে আটক করা হলেও তাদের মধ্য থেকে ১২জনকে আটক দেখিয়ে অন্য ১৩জনকে ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব।

আটককৃত ‘জঙ্গী’দের কাছ থেকে ‘উদ্ধারকৃত’ ৬২ জিবি সংরক্ষিত ডাটা থেকে জিহাদে উদ্ধুদ্ধকরণের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘তারা চট্টগ্রামের বাইরে থেকে দরিদ্র যুব সম্প্রদায়কে এনে আরবি সাহিত্য শিক্ষার আড়ালে জঙ্গীবাদের তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ দিত।

তাদেরকে প্রথমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত মুসলমানদের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে জিহাদে উদ্বুদ্ধ করা হতো।  পরে একে-৪৭ রাইফেল চালনার কৌশল, আইএস, আল নুসরা, আল কায়েদা, হামাস, হিজবুল্লাহ, আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফের প্রশিক্ষণের ভিডিও দেখানো হয়।’

‘এছাড়া মানুষ অপহরণ, বিমান অপহরণ, বাচ্চাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ, ওসামা বিন লাদেন, আইমান আল জাওয়াহিরির বক্তব্য দেখানো হতো। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বই বাংলায় অনুবাদ করে শেখানো হতো। তাদের কাছ থেকে মোমোরি কার্ডে সংরক্ষিত এসব ভিডিও ফুটেজ আমরা উদ্ধার করেছি।’- বলেন মিফতাহ আহমেদ।

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের সঙ্গে কারা জড়িত, বিস্তারিত তদন্ত করে  বলা যাবে। তবে তাদের প্রাথামিক জিজ্ঞাসাবাদে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আল কায়দার আঞ্চলিক শাখা গঠনের লক্ষে কাজ করছেন।’

আবু বক্কর মাদ্রাসায় কিভাবে কি কি প্রশিক্ষন নেওয়া হতো? এমন প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাবের অধিনায়ক বলেন, ‘জঙ্গীদের ভিডিও ফুটেজগুলো প্রশিক্ষণার্থীদের দেখিয়ে জিহাদে উদ্ধুব্ধ করতো। প্রাথমিক পর্যায়ে তারা এখানে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ নিতেন। পরবর্তীতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণের জন্য অন্য  কোথাও নেওয়া হতে পারে।

তাদের বিশদ কর্মকা- সম্পর্কে জানতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর তাদের টিএফআই সেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুপারিশ করা হবে।’

তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে লে.কর্নেল মিফতাহ বলেন, ‘সন্দেহজনকভাবে যে ২৫ জনকে আটক করা হয়েছিল। এদের মধ্যে থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেকের কাছে একটি করে মেমোরি কার্ড রয়েছে। তারা এসব ভিডিও ফুটেজ সেখানে লুকিয়ে রাখতো।

এসব মেমোরি কার্ড থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ৬২ জিবি ডাটা উদ্ধার করা হয়েছে। নিজেদের মধ্যে তারা কখনো মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতো না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তারা যোগাযোগ করতো এবং কথা বলা শেষে তা মুছে দিত। যার কারণে তাদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।’

র‌্যাব অধিনায়ক আরো বলেন, ‘তারা যদি আরবি সাহিত্য শিখতে আসে তাহলে তাদের কাছে কেন একে-৪৭ চালানোর ভিডিও, বিমান অপহরণ ও শিশুদের অস্ত্র চালনার ভিডিও থাকবে? তারা মূলত ডিজিটাল জিহাদের
মাধ্যমে দেশে জঙ্গী প্রশিক্ষন শুরু করছিল। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে ্ওই মাদ্রাসার মালিক মোহাম্মদ ফাত্তাহকে গ্রেপ্তার করা হলে সব তথ্য উদঘাটন করা হবে।’

র‌্যাব-৭ এর কার্যালয়ে ফটোসেশনের সময় আটক ‘জঙ্গী’দের সঙ্গে গণমাধ্যম কর্মীদের কথা বলার সুযোগ দেয়নি র‌্যাব। তবে তাদের নিয়ে যাওয়ার তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে এক সঙ্গে কয়েকজন চিৎকার করে বলেন, ‘আমারা এখানে আরবি সাহিত্য পড়তে এসেছি। এখানে যা বলা হয়েছে তার সবই মিথ্যা।’

আটকৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার শেরপুর থানার নাকপাড়া গ্রামের মানিক মিয়ার ছেলে আব্দুর রহমান ইবনে আসাদউল্লাহ (২৩), মুন্সিগঞ্জ  জেলার টুঙ্গীবাড়ি থানার কামার বাড়ি গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে ওসমান গনি (২০), শেরপুর জেলার সদর থানার বাগরাবাশা গ্রামের কাজী মহিউদ্দিনের ছেলে মোস্তাকিম বিল্লাহ মাশরুর (২১), ভোলা  জেলার লালমোহন থানার ভোলা গ্রামের নাজমুল হোসেনের ছেলে নাবিল  হোসাইন (১৯), চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চেচুরিয়া আবুল শামার ছেলে মো. সিরাজুল মোস্তাফা সোলাইমান (১৯), পাবনা জেলার আলিমপুর থানার সাগরকান্দি গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে শামিম  হোসাইন ইসমাঈল (১৮), ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার হিম্মত নগর গ্রামের আবিদ আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসান (২২), নেত্রকোনা  জেলার সদর থানার পাঁচাশি গ্রামের আব্দুল ওক্কাছের ছেলে  মো. ইউসুফ (২৩), গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার মুরাদুল ইসলাম শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম শেখ সালাউদ্দীন (১৯), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার চোনারচর গ্রামের শুকুর মাহমুদের ছেলে রফিকুল ইসলাম যুবায়ের (১৯), গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার মৃত আবাবর শেখের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম শেখ মানছুর ইসলাম (১৮), শেরপুর জেলার শ্রীবর্দ্দী থানার কুড়ি কাছনীয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে হারুনুর রশিদ (১৯)।

তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা দায়েরর পর তাদের হাটাহাজারী থানায় হস্তান্তর করা হবে বলে জানান মেজর জাহাঙ্গীর।

প্রতিক্ষণ/এডি/রানা

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G