দেশে কোন অঞ্চলে কোন জাতের আম কখন পাওয়া যাবে
দেশে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে জাতভিত্তিক নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করেছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে তৈরি “ম্যাংগো ক্যালেন্ডার” অনুযায়ী এখন থেকে জেলাভেদে এবং জাতভেদে নির্ধারিত সময়েই আম সংগ্রহ করতে হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাতক্ষীরায় ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাসসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। একই জেলায় সর্বশেষ জাত হিসেবে গৌরমতি আম সংগ্রহ শুরু হবে ১৪ আগস্ট। মাঝের সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য জাতের আম বাজারে আসবে। ফলে দেশে আম সংগ্রহ মৌসুম চলবে মে মাস থেকে শুরু হয়ে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবহাওয়া ও মাটির ভিন্নতার কারণে আম পাকার সময়ও আলাদা হয়। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখে প্রথমবারের মতো জেলাভিত্তিক এবং জাতভিত্তিক সমন্বিত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে আম বিজ্ঞানী, কৃষিবিদ, রপ্তানিকারক এবং বিভিন্ন জেলার কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ভিত্তিতে রপ্তানিযোগ্য আম সংগ্রহের সময়ও নির্ধারণ করা হয়।
সভায় বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৩৭টি দেশে আম রপ্তানি হচ্ছে। তাই সময়মতো ও সঠিক পরিপক্বতায় আম সংগ্রহ না করলে রপ্তানি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য মানসম্মত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে এই সময়সূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আম যদি সময়ের আগে পাড়া হয় তাহলে তা ঠিকভাবে পাকে না এবং স্বাদ ও মান নষ্ট হয়। আবার সঠিক সময় পার হয়ে গেলে ফল দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই প্রতিটি জাতের জন্য আলাদা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন জেলার আম সংগ্রহের সময়সূচি
সাতক্ষীরা:
৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী ও বোম্বাইসহ স্থানীয় জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রপ্তানিযোগ্য আম সাধারণত আরও ৫–৭ দিন পরে সংগ্রহ করা হবে।
চুয়াডাঙ্গা:
১৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ, ২৭ মে থেকে হিমসাগর, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২০ জুন থেকে আম্রপালি এবং ২২ জুন থেকে বারি আম-৪ সংগ্রহ শুরু হবে।
যশোর:
১৫ মে থেকে গোপালভোগ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২১ জুন থেকে আম্রপালি এবং ২৩ জুন থেকে বারি আম-৪ সংগ্রহ শুরু হবে।
মেহেরপুর:
১৬ মে থেকে গোপালভোগ, ২৮ মে থেকে হিমসাগর, ১১ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২২ জুন থেকে আম্রপালি, ২৩ জুন থেকে ফজলি এবং ২৪ জুন থেকে বারি আম-৪ সংগ্রহ শুরু হবে।
কুষ্টিয়া:
২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৯ মে থেকে হিমসাগর, ১১ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২২ জুন থেকে আম্রপালি, ২৪ জুন থেকে ফজলি এবং ২৬ জুন থেকে বারি আম-৪ সংগ্রহ শুরু হবে।
নাটোর:
২৫ মে থেকে গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর, ১২ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৬ জুন থেকে লক্ষণভোগ ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ২৫ জুন থেকে আম্রপালি এবং ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪ সংগ্রহ শুরু হবে।
রাজশাহী:
২৫ মে থেকে গোপালভোগ, ৩০ মে থেকে হিমসাগর, ১২ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৬ জুন থেকে লক্ষণভোগ, ১৮ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ২৫ জুন থেকে আম্রপালি, ২৬ জুন থেকে ফজলি এবং ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪ ও ৩১ জুলাই থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ:
২৬ মে থেকে গোপালভোগ, ৪ জুন থেকে হিমসাগর, ১৪ জুন থেকে ল্যাংড়া, ১৮ জুন থেকে লক্ষণভোগ, ২০ জুন থেকে হাড়িভাঙ্গা, ২২ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ২৭ জুন থেকে আম্রপালি, ৩০ জুন থেকে ফজলি এবং ৪ আগস্ট থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
নওগাঁ:
১ জুন থেকে গোপালভোগ, ৮ জুন থেকে হিমসাগর, ১৭ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২২ জুন থেকে হাড়িভাঙ্গা, ২৩ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ২৮ জুন থেকে আম্রপালি, ৩০ জুন থেকে ফজলি এবং ৮ আগস্ট থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
রংপুর:
৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ১৮ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২৩ জুন থেকে হাড়িভাঙ্গা ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ৩০ জুন থেকে আম্রপালি, ১৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪ এবং ১১ আগস্ট থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
দিনাজপুর:
২ জুন থেকে গোপালভোগ, ১৮ জুন থেকে হিমসাগর, ২০ জুন থেকে ল্যাংড়া, ২৪ জুন থেকে হাড়িভাঙ্গা, ২৮ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ১ জুলাই থেকে আম্রপালি, ২০ জুলাই থেকে বারি আম-৪ এবং ১২ আগস্ট থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
ঠাকুরগাঁও:
৩ জুন থেকে গোপালভোগ, ২৬ জুন থেকে হাড়িভাঙ্গা, ৩০ জুন থেকে ব্যানানা ম্যাঙ্গো, ৪ জুলাই থেকে আম্রপালি, ২০ জুলাই থেকে বারি আম-৪ এবং ১৪ আগস্ট থেকে গৌরমতি সংগ্রহ শুরু হবে।
প্রতি / এডি / শাআ









