হঠাৎ দীর্ঘশ্বাস এলে শরীরে কী ঘটে জানেন?
চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা মানসিক অস্থিরতার মুহূর্তে হঠাৎ করেই অনেকের মুখ থেকে বেরিয়ে আসে একটি দীর্ঘশ্বাস। এরপরই যেন কিছুটা স্বস্তি অনুভূত হয়। বিষয়টি শুধু মানসিক অভ্যাস নয়, এর পেছনে রয়েছে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘশ্বাস নেওয়া মানুষের শরীরের স্বাভাবিক একটি কাজ। আমরা সচেতনভাবে যেমন দীর্ঘশ্বাস নিই, তেমনি অজান্তেও শরীর নিয়মিত এই কাজ করে যায়। অনেক সময় শরীর নিজেই বুঝে নেয় কখন একটি গভীর শ্বাস প্রয়োজন।
ফুসফুসকে সচল রাখে দীর্ঘশ্বাস
মানুষের ফুসফুসে অসংখ্য ক্ষুদ্র বায়ুথলি থাকে, যেগুলোকে অ্যালভিওলাই বলা হয়। এখানেই অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের আদান-প্রদান হয়। সাধারণ শ্বাসের সময় এসব বায়ুথলির কিছু অংশ পুরোপুরি সক্রিয় থাকে না।
দীর্ঘশ্বাস তুলনামূলকভাবে অনেক গভীর হওয়ায় ফুসফুসের কম সক্রিয় অংশগুলোও প্রসারিত হয়। এতে অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হয়। এক অর্থে, এটি শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থাকে নতুন করে সক্রিয় করে তোলে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ অজান্তেই প্রতি কয়েক মিনিট পরপর অন্তত একবার দীর্ঘশ্বাস নেয়। অর্থাৎ এটি শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণের অংশ।
স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে
মানুষের শরীরে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের দুটি অংশ রয়েছে। একটি শরীরকে সতর্ক অবস্থায় রাখে, অন্যটি শরীরকে শান্ত হতে সাহায্য করে।
চাপ বা উদ্বেগের সময় শরীরের সতর্কতামূলক অংশ বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। ফলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়, শ্বাস দ্রুত হয় এবং পেশিতে টান তৈরি হয়। এমন অবস্থায় একটি দীর্ঘশ্বাস ধীরে ধীরে শরীরকে শান্ত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এতে শ্বাস ধীর হয়, পেশির চাপ কমে এবং শরীর কিছুটা স্বস্তি অনুভব করে।
উদ্বেগের চক্র ভাঙতে সাহায্য করে
দুশ্চিন্তার সময় মানুষ সাধারণত দ্রুত ও অগভীর শ্বাস নিতে থাকে। এতে শরীর আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘশ্বাস সেই চক্র ভেঙে গভীর ও ধীর শ্বাস নিতে সহায়তা করে। ফলে মস্তিষ্কে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি হয়।
মস্তিষ্কেরও রয়েছে বিশেষ ভূমিকা
গবেষকরা বলছেন, মস্তিষ্কের ব্রেনস্টেম অংশে কিছু বিশেষ স্নায়ুকোষ রয়েছে, যেগুলো শ্বাসপ্রশ্বাসের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। এই কোষগুলোর একটি অংশ দীর্ঘশ্বাস নেওয়ার সংকেত দেয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর শরীরকে গভীর শ্বাস নিতে উৎসাহিত করাই এদের কাজ।
কখন সতর্ক হবেন
মাঝেমধ্যে দীর্ঘশ্বাস নেওয়া স্বাভাবিক। তবে খুব ঘন ঘন দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে যদি শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় বা অতিরিক্ত উদ্বেগ থাকে, তাহলে সেটি শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘশ্বাস শুধু আবেগের প্রকাশ নয়। এটি শরীরের এমন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা ফুসফুসকে সচল রাখে, স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
প্রতি / এডি / শাআ









