ফরিদপুরে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হলো আনারস চাষ, কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা

প্রকাশঃ জুন ২, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ করে নতুন সম্ভাবনার পথ খুলে দিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির। উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের যদুনন্দী গ্রামে দুইটি প্লটে মোট ৮ বিঘা জমিতে তিনি ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের আনারসের বাগান গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা এটিকে জেলার বাণিজ্যিক আনারস চাষের একটি নতুন সূচনা হিসেবে দেখছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিলন ফকির। গত বছর তিনি শখের বশে নিজের বাড়ির ছাদে কয়েকটি আনারস গাছ লাগিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। সফলতা পাওয়ার পর তিনি বৃহৎ পরিসরে বাণিজ্যিক আনারস চাষের সিদ্ধান্ত নেন। পরে টাঙ্গাইলের মধুপুর এলাকা থেকে ক্যালেন্ডার ও জলডুগু জাতের প্রায় ৮০ হাজার চারা সংগ্রহ করে ৮ বিঘা জমিতে রোপণ করেন।

কৃষি উদ্যোক্তা মিলন ফকির জানান, প্রথমে শখের জায়গা থেকেই আনারস চাষ শুরু করেন তিনি। ভালো ফলন পাওয়ার পর এটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সাহস পান। বর্তমানে ৮ বিঘা জমির বাগান গড়ে তুলতে চারা সংগ্রহ, জমি প্রস্তুত ও পরিচর্যাসহ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। তার আশা, ফলন ভালো হলে প্রায় ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার আনারস বিক্রি করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী বছরে গাছে আরও বেশি ফল আসবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি আনারসের চারা বিক্রির পরিকল্পনাও রয়েছে। তার মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও আনারস চাষে আগ্রহী হবেন। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে তিনি ভবিষ্যতে চাষ আরও সম্প্রসারণ করতে চান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার (১ জুন) সালথার যদুনন্দী গ্রামে বিস্তীর্ণ জমিজুড়ে সারিবদ্ধভাবে আনারসের চারা রোপণ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন ও নিয়মিত পরিচর্যায় থাকা বাগানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়দের নজর কাড়ছে। সবুজে ঘেরা পরিবেশে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষক নিয়ামত আলী বলেন, এই এলাকায় আগে কখনও আনারস চাষ দেখা যায়নি। মিলন ফকিরের উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক। ফলন ভালো হলে আমরাও এই চাষে আগ্রহী হবো।

সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, উপজেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষ শুরু হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তারা আশা করছেন, এটি লাভজনক প্রমাণিত হলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং কৃষিতে বৈচিত্র্য আসবে।

স্থানীয়দের মতে, প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে এমন উদ্যোগ সফল হলে ফরিদপুর অঞ্চলে আনারস চাষ নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে এবং কৃষকদের আয়ের নতুন উৎস তৈরি হবে।

স্থানীয়দের দাবি, স্বাধীনতার পর দক্ষিণাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আনারস চাষের এটিই প্রথম বড় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G