বিলুপ্তপ্রায় বিরল গাছ টিকিয়ে রাখতে বিজ্ঞানীদের আপ্রাণ চেষ্টা
বিশ্বের অন্যতম বিরল উদ্ভিদ প্রজাতির একটি গাছকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চিলির উপকূলবর্তী একটি দূরবর্তী দ্বীপে টিকে থাকা এই প্রজাতির শেষ বুনো গাছটি থেকে সফলভাবে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রজাতিটি টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বড় আশা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চিলি উপকূল থেকে প্রায় ৬৭৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হুয়ান ফার্নান্দেজ দ্বীপপুঞ্জে জন্ম নেয় ডেনড্রোসেরিস নেরিফোলিয়া নামের অত্যন্ত বিপন্ন এই গাছ। একসময় দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকায় গাছটি দেখা গেলেও বর্তমানে প্রকৃতিতে মাত্র একটি বুনো গাছ অবশিষ্ট রয়েছে।
গবেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, মাটিক্ষয়, দাবানল, গবাদিপশুর চারণ এবং আক্রমণাত্মক উদ্ভিদ প্রজাতির বিস্তারের কারণে গাছটির প্রাকৃতিক আবাস ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে প্রজাতিটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে।
উদ্ভিদ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে শেষ জীবিত গাছটি থেকে সংগৃহীত বীজ ইংল্যান্ডের কিউ ওয়েকহার্স্টের মিলেনিয়াম সিড ব্যাংকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘমেয়াদে বীজ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন চারা উৎপাদনের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন।
গবেষণায় এক্স-রে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা গেছে, সংগ্রহ করা ২৯টি বীজের মধ্যে ২৫টিই অঙ্কুরোদগমের উপযোগী। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি প্রজাতিটির ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি।
মিলেনিয়াম সিড ব্যাংকের গবেষক অ্যালিস হাডসনের মতে, বর্তমানে যেসব চারা গাছ বড় হচ্ছে, সেগুলো পরিণত হলে ভবিষ্যতে আরও বীজ সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এতে প্রজাতিটির সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তবে গবেষকেরা এখনও পুরোপুরি আশ্বস্ত নন। কারণ প্রকৃতিতে মাত্র একটি গাছ বেঁচে থাকায় এর জিনগত বৈচিত্র্য অত্যন্ত সীমিত হয়ে গেছে। এতে ভবিষ্যতে প্রজনন জটিলতা এবং কম উর্বরতার ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
তারপরও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সংরক্ষিত বীজ ও নতুন চারাগুলো এই বিরল প্রজাতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক পরিবেশে শেষ বুনো গাছটি হারিয়ে গেলেও এই বীজ ব্যাংক প্রজাতিটিকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ ধরে রাখবে।
প্রতি / এডি / শাআ









