যুক্তরাষ্ট্রের ফের ডিভি লটারি চালু, আবেদন করতে পারবে কি বাংলাদেশিরা?

প্রকাশঃ অক্টোবর ২১, ২০২৬ সময়ঃ ৮:২২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২২ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর বিষয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি প্রকাশ এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে বলা হয়েছে। তবে নতুন এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ে ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরু না হওয়াকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলার শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

মামলাটি করেছে রেড ঈগল ল নামের একটি আইন প্রতিষ্ঠান। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করায় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটির কার্যক্রম আটকে রেখেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পর নিবন্ধন শুরু করলে কর্মসূচির বিদ্যমান নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

আদালতের নির্দেশ অনুসারে, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে আবেদন গ্রহণের সুনির্দিষ্ট তারিখ, অংশগ্রহণের যোগ্যতা এবং নিবন্ধনের নিয়মাবলি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

কী এই ডিভি লটারি?

ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার একটি অভিবাসনব্যবস্থা, যা সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত। এ কর্মসূচির আওতায় যোগ্য দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দের বিধান রয়েছে।

লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের ভিসা পাওয়ার সুযোগ পান। তবে নির্বাচিত হওয়াই ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা অথবা গ্রহণযোগ্য পেশাগত অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য অভিবাসন ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়।

সাধারণভাবে আবেদনকারীর উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এ কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তার কাছ থেকে চাকরির প্রস্তাব নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?

২০২৭ সালের ডিভি লটারি নিয়ে বাংলাদেশিদের আগ্রহের প্রধান কারণ হলো, এবার বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার যোগ্য হবেন কি না। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির যোগ্য দেশের তালিকা এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

শুধু আদালতের নির্দেশে নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর কথা বলা হয়েছে বলেই বাংলাদেশের নাগরিকদের আবেদনের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে, এমনটা বলা যাবে না। নিবন্ধন শুরুর সময়সূচি এবং কোন কোন দেশের নাগরিক অংশ নিতে পারবেন, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের পরই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসে আগ্রহী বাংলাদেশিদের নতুন নির্দেশনার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে যোগ্য দেশের তালিকা, শিক্ষাগত বা পেশাগত শর্ত এবং আবেদনের নিয়ম প্রকাশিত হলে সেগুলো ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।

আবেদনকারীদের যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন

ডিভি লটারির নিবন্ধন ও যোগ্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পেতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইটের ঘোষণা অনুসরণ করা জরুরি। অনানুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা যাচাই না করা খবরের ওপর নির্ভর করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া কিংবা অর্থ লেনদেন করা উচিত নয়।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, লটারিতে নাম উঠলেই স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। পরবর্তী ধাপে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, নথিপত্র এবং ভিসা প্রক্রিয়ার শর্ত পূরণ করতে হয়।

সব মিলিয়ে, আদালতের নির্দেশের ফলে ডিভি লটারির নিবন্ধন কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা ২০২৭ সালের কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত হতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G