যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য ৬০ দিনের চুক্তিতে থাকতে পারে যেসব বিষয়

প্রকাশঃ মে ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৩১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৩১ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সাময়িকভাবে কমাতে নতুন একটি সমঝোতার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্র জানিয়েছে। প্রস্তাবিত এই সমঝোতার আওতায় দুই দেশ ৬০ দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে আলোচনায় বসতে পারে। যদিও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, সম্ভাব্য এই সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আঞ্চলিক সংঘাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পেয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক বাণিজ্য

সম্ভাব্য সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যেন কোনও ধরনের বাধা বা নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে সমুদ্রপথে স্থাপিত মাইন অপসারণ এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।

পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন আলোচনা

সমঝোতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। সম্ভাব্য আলোচনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম সীমিত করা এবং বিদ্যমান মজুদের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে যে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভবিষ্যতে সামরিক কাজে ব্যবহার হতে পারে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম বেসামরিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞা ও মানবিক সহায়তা

চলমান আলোচনায় ইরানের ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও উঠে এসেছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ এবং মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরানের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে।

আঞ্চলিক সংঘাত নিয়েও আলোচনা

সম্ভাব্য সমঝোতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতের বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে লেবানন, ইয়েমেন, ইরাক ও সিরিয়ায় সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি আলোচনায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতিও কূটনৈতিক আলোচনার অংশ হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে।

কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে

ওয়াশিংটন, দোহা ও ইসলামাবাদে একাধিক পর্যায়ে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও অঞ্চলজুড়ে সামরিক উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে।

কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ

বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরি করতে পারে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারে।

তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো বেশ কিছু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাধা রয়ে গেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

20G