রবীন্দ্রনাথের নোবেল চুরির ইতিহাস

প্রকাশঃ মে ২৬, ২০১৫ সময়ঃ ১০:৩০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৯ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট, প্রতিক্ষণ ডট কম:

print1গীতাঞ্জলী কাব্যের জন্য ১৯১৩ সালে বাঙালির প্রথম নোবেল জয় করেছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । পদকটি রাখা হয়েছিল কবির নিজের হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী জাদুঘরে। কিন্তু নিরাপত্তার ঢিলেমির সুযোগে বাঙালি হিসেবে পৃথিবীর বুকে প্রথম স্বীকৃতির এই সোপান চিহ্ন নোবেল পদকটি খোয়া যায়।

সংগ্রহ শালার কর্মচারীরা যখন ভবনের দ্বার খুলে দেন তখনই সবার চোখে পরে ব্যাপারটা। শুরু হয় হৈ চৈ। ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডাঃ সুজিত কুমার বসুসহ অরো অনেকে। পুলিশ এসে গোটা রবীন্দ্র ভবন ঘিরে ফেলে।

কিন্তু ততক্ষণে বড্ড দেরি হয়ে গেছে। ইতিমধ্যেই সেখান থেকে চুরি হয়ে গেছে রৌপ্যপদক, ওঁ লেখা সোনার আংটি, জামার সোনার বোতাম, কাফ লিঙ্ক, মৃণালিনী দেবীর শাড়ি, সোনা-বাঁধানো নোয়া, নোবেল পুরস্কারের পদক রুপোর রেকাবি, রুপোর কফি কাপ, সামুরাই তরবারি, কফি কাপ রাখার তেপায়া, চৈনিক চামুচ, কোবে শহর থেকে পাওয়া হাতির দাঁতের ঝাঁপিসহ আরও ৩৭টি জিনিস।

মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কাছে খবর পৌছানোর সাথে সাথে তদন্তের নির্দশ দেন সি.আই.ডিকে। হতাশা প্রকাশ করেণ বিশ্বভারতীর আচার্য ও প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী। ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সাথে, আশ্বাস দেন সর্বোচ্চ সহযোগিতার।

নোবেল চুরির খবর ছড়িয়ে পরার পর সারা ভারত জুড়ে উঠে ক্ষোভ। বিশ্বভারতীর আচার্য ও প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী করা হয়। তৃণমূল কর্মীরা অনশনে বসে। SFI মিছিল বের করে। প্রধান বিচারপতির আদালতে তিনটি আলাদা মামলা হয়। অমর্ত্য সেন, মহাশ্বতা দেবী, শঙ্খঘোষ সবাই  অবিলম্বে উদ্ধারের দাবী জানান।

Tagore'sNobelBurglarনোবেল যাতে গলিয়ে ফেলতে না পারে সেজন্য রাজ্য জুড়ে সকল স্বর্ণকারদের অনুরোধ জানানো হয়। ওদিকে বীমা কোম্পানী ন্যাশনাল ইন্সুরেন্স কোম্পানী বলেছে তারা ১০ বছর আগেই বলেছে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা পর্যাপ্ত নয়।

বিশ্বভারতীর উপাচার্য সুজিত কুমার বসু চোরদের কাছে আবেদন জানান, “ওরা ওই সব মূল্যাবান বস্তু আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিক ওদের ক্ষমা করে দেয়া হবে। ওদের পরিচয় গোপন রাখা হবে, এটা জাতীয় লজ্জা।”।

চুরির দিন ২৫ মার্চ ২০০৪ ছিল বুধবার ছিল শান্তিনিকেতনের ছুটির দিন। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় বন্ধ হয়ে যায় শান্তিনিকেতন। বৃহস্পতিবার রবীন্দ্র ভবন খুলতেই ধরা পরে চুরির ঘটনা। মঙ্গলবার বিশ্বভারতী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগেই চোরেরা ভেতরে ঢুকে অবস্থান নেয়। সারা রাত ধরে মালপত্র সরাতে থাকে।

রবীন্দ্র ভবনের পেছনের জানালা ভেঙে ফেলে চোর, দেয়ালের নিচে পাওয়া যায় ভাঙা গ্রিল। এই জানালা দিয়ে মালপত্র সরিয়ে নেয়। পুলিশ বলে চোর জানালা দিয়ে ঢোকেনি। কারণ, সে ক্ষেত্রে জানালার পাল্লা ভেঙে ফেলতে হতো। উত্তরায়নের এই বিশাল এলাকা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল মাত্র দুজন এনডিএফ কর্মী। পাওয়া গেছে ২৮ জোড়া পায়ের ছাপ। তার মধ্যে আবার দুজনের পায়ে চটি ছিল। কিন্তু সেই রহস্য আজও যেমন উদ্ধার হয়নি, তেমনি খুঁজে পাওয়া যায়নি কবির পদকও।

প্রতিক্ষণ/এডি/পাভেল

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G