লাল ডিম নাকি সাদা ডিম, কোন ডিমে মিলবে বেশি পুষ্টি
কিছু গবেষণায় বাদামি ডিমে সামান্য বাজারে গেলে সাধারণত দুই ধরনের ডিম বেশি দেখা যায়—সাদা খোলসের ডিম ও লাল বা বাদামি খোলসের ডিম। অনেকের ধারণা, লাল ডিমের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এতে পুষ্টিগুণও বেশি থাকে। আবার কেউ মনে করেন, সাদা ডিমই বেশি ভালো। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার বেশিরভাগই ভুল।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, ডিমের খোলসের রঙের সঙ্গে এর পুষ্টিগুণের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। সাদা ও লাল দুই ধরনের ডিমেই প্রায় একই পরিমাণ প্রোটিন, চর্বি ও ক্যালোরি পাওয়া যায়।
ডিমের রং ভিন্ন হয় কেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের খোলসের রং নির্ভর করে মুরগির জাত ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর। সাধারণভাবে সাদা পালকের মুরগি সাদা ডিম দেয় এবং গাঢ় রঙের মুরগি বাদামি বা লালচে ডিম পাড়ে।
ডিম তৈরির শেষ পর্যায়ে মুরগির শরীর থেকে নির্দিষ্ট কিছু রঞ্জক পদার্থ খোলসের ওপর জমা হয়। এর ফলেই ডিমের রঙে পার্থক্য দেখা যায়।
পুষ্টিতে কতটা পার্থক্য
পুষ্টিবিদদের মতে, শুধু খোলসের রঙ দেখে ডিমের মান বিচার করা ঠিক নয়। সাদা ও লাল ডিমের পুষ্টিগুণ প্রায়বেশি ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিডের উপস্থিতির কথা বলা হলেও এই পার্থক্য খুবই সীমিত এবং সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে বড় কোনো প্রভাব ফেলে না।
আসল পার্থক্য তৈরি হয় যেভাবে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিমের পুষ্টিগুণ মূলত নির্ভর করে মুরগির খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশের ওপর। যেসব মুরগি খোলা পরিবেশে থাকে, প্রাকৃতিক খাবার খায় ও পর্যাপ্ত রোদ পায়, তাদের ডিমে কিছু ভিটামিন ও খনিজ বেশি থাকতে পারে।
আবার উন্নত মানের খাদ্য খাওয়ানো খামারের মুরগির ডিমেও ভালো পুষ্টিমান পাওয়া সম্ভব।
কুসুমের রঙেও আছে ইঙ্গিত
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিমের খোলসের চেয়ে কুসুমের রঙ কিছুটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সাধারণত গাঢ় হলুদ বা কমলা রঙের কুসুমে ভিটামিন ও খনিজের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। তবে এটিও মূলত নির্ভর করে মুরগির খাবারের ওপর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিম কেনার সময় শুধু রঙ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বরং ডিম কতটা সতেজ এবং মুরগির খাদ্য ও পরিচর্যা কেমন ছিল, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া বেশি প্রয়োজন।
প্রতি / এডি / শাআ












