শক্তিশালী সৌরঝড়ের মুখোমুখি হতে পারে পৃথিবী!

প্রকাশঃ জুন ৮, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

টানা কয়েকদিন ধরে সূর্যে অস্বাভাবিক তৎপরতা লক্ষ্য করছেন বিজ্ঞানীরা। একের পর এক সৌর বিস্ফোরণ ও চৌম্বকীয় গ্যাসের বিশাল মেঘ মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে একটি শক্তিশালী সৌরঝড় সরাসরি পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সোমবার পৃথিবীতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ৬ জুন সূর্যের অ্যাক্টিভ রিজন ৪৪৬১ নামের একটি অঞ্চল থেকে এম১.৮ মাত্রার সৌর বিস্ফোরণ ঘটে। বিজ্ঞানীদের দৃষ্টি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে বিস্ফোরণের সঙ্গে নির্গত ‘কোর ফিলামেন্ট’। এটি অত্যন্ত ঘন ও শক্তিশালী চৌম্বকীয় বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্লাজমার একটি প্রবাহ, যা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ওয়েদার প্রেডিকশন সেন্টার (এসডব্লিউপিসি) জানিয়েছে, এ ঘটনার ফলে মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে। এতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ, জিপিএস সেবা এবং রেডিও সংকেতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন, ফিলামেন্ট মূলত সূর্যের চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের ওপর ভাসমান আয়নিত গ্যাসের বিশাল কাঠামো। ভেতরের প্লাজমার তাপমাত্রা সূর্যের বাইরের স্তরের তুলনায় তুলনামূলক কম হলেও এর ভর ও শক্তি অত্যন্ত বেশি। চৌম্বকীয় ভারসাম্য নষ্ট হলে এটি বিস্ফোরিত হয়ে কোটি কোটি টন প্লাজমা মহাকাশে ছড়িয়ে দেয়।

মহাকাশ আবহাওয়া বিশ্লেষক তামিতা স্কোভ একে “টেক্সটবুক কোর ফিলামেন্ট” বিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সোমবার রাতেই পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে উজ্জ্বল মেরুজ্যোতি বা অরোরা দেখা যেতে পারে।

পদার্থবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, সূর্যের ওই অঞ্চলের চৌম্বকীয় রেখাগুলো অতিরিক্ত চাপের কারণে পাকিয়ে গিয়েছিল। পরে তা ছিঁড়ে গিয়ে এক্স-রে বিকিরণ ও দ্রুতগতির প্লাজমা মহাকাশে নিক্ষেপ করে। এই বিকিরণ পৃথিবীর রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

পৃথিবীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্র সাধারণত সৌরঝড়ের বিপজ্জনক শক্তি থেকে গ্রহটিকে সুরক্ষা দেয়। তবে ধেয়ে আসা প্লাজমার চৌম্বকীয় দিক পৃথিবীর বিপরীতমুখী হলে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি হতে পারে। তখন আকাশে অরোরার রঙিন আলো দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূ-চৌম্বকীয় ঝড়ের মাত্রা জি১ থেকে জি৫ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। এবারের সৌরঝড়টি জি৩ মাত্রার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি জটিল হলে এটি সাময়িকভাবে জি৪ পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।

এই ধরনের ঝড়ে মেরুজ্যোতি সাধারণত মেরু অঞ্চল ছাড়িয়ে আরও দক্ষিণের আকাশেও দৃশ্যমান হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উত্তর ভারত, ইউরোপের কিছু অংশ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের আকাশে সবুজ, বেগুনি ও লাল আভা দেখা যেতে পারে।

বিজ্ঞানীরা আরও আশঙ্কা করছেন, সূর্যের আগের একটি ধীরগতির প্লাজমা মেঘের সঙ্গে নতুন দ্রুতগতির মেঘটি মিলিত হলে আরও শক্তিশালী ‘ক্যানিবাল সিএমই’ তৈরি হতে পারে। এতে সৌরঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে পৃথিবীর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G