শিশুর রাগ ও জেদ সামলাবেন যেভাবে, জেনে নিন কার্যকর কৌশল

প্রকাশঃ অক্টোবর ২০, ২০২৬ সময়ঃ ৭:১১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:১১ অপরাহ্ণ

শিশুর কান্না, চিৎকার কিংবা জেদ অনেক সময় অভিভাবকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জনসমাগমের মধ্যে শিশু হঠাৎ রেগে গেলে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়ে বিব্রত ও বিরক্ত বোধ করেন অনেক মা-বাবা। কিন্তু শিশুর এমন আচরণ সব সময় ইচ্ছাকৃত অবাধ্যতার প্রকাশ নয়। ক্ষুধা, ঘুমের অভাব, হতাশা, ভয় কিংবা নিজের মনের কথা বোঝাতে না পারার কারণেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা জন্মের পর থেকেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে পরিবারের বড়দের আচরণ, শিশুর সঙ্গে যোগাযোগের ধরন এবং তার বেড়ে ওঠার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শিশুর রাগ থামানোর পাশাপাশি তাকে নিজের অনুভূতি চিনতে ও সামলাতে শেখানোও জরুরি। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাগ বা কান্নার পেছনে শারীরিক কিংবা বিকাশগত সমস্যাও থাকতে পারে। কখন সাধারণ যত্ন যথেষ্ট, আর কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন, তা জানা অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা কীভাবে তৈরি হয়

আবেগ নিয়ন্ত্রণ বলতে নিজের অনুভূতি বোঝা, তার তীব্রতা সামলানো এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী আচরণ করার ক্ষমতাকে বোঝায়। মনোবিজ্ঞানী জেমস গ্রসের গবেষণায় আবেগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

শিশুরা জন্মের সময় এই দক্ষতায় পুরোপুরি পারদর্শী থাকে না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের বিকাশ এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তারা নিজের অনুভূতি সামলাতে শেখে। ভয় পেলে সান্ত্বনা পাওয়া, কষ্টের সময় কারও পাশে থাকা কিংবা রেগে গেলে বড়দের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়ার মতো অভিজ্ঞতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে মস্তিষ্কের নির্বাহী কার্যক্ষমতারও সম্পর্ক রয়েছে। এই ক্ষমতা মনোযোগ ধরে রাখা, তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা, সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কোনো কাজ করার আগে ভেবে দেখার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো খেলায় হেরে গিয়ে শিশু রেগে যেতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে সে শিখতে পারে, রাগ হলেও বন্ধুকে আঘাত করা ঠিক নয়। বরং নিজের কষ্টের কথা বলা কিংবা কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া যায়। এ ধরনের দক্ষতা এক দিনে তৈরি হয় না। নিয়মিত অনুশীলন ও বড়দের সহায়তায় তা বিকশিত হয়।

শিশুকে শান্ত হতে শেখাতে বড়দের ভূমিকা

ছোট শিশুরা যখন নিজের আবেগ সামলাতে পারে না, তখন অভিভাবক বা যত্ন নেওয়া ব্যক্তিরা তাদের শান্ত হতে সাহায্য করেন। মনোবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় কো-রেগুলেশন বা যৌথ আবেগ নিয়ন্ত্রণ।

শিশু প্রথমে বড়দের সহায়তায় শান্ত হতে শেখে। পরে একই অভিজ্ঞতা বারবার হওয়ার ফলে নিজেই নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল আয়ত্ত করতে পারে। একে বলা হয় আত্মনিয়ন্ত্রণ বা সেলফ-রেগুলেশন।

এ ক্ষেত্রে বড়দের শান্ত আচরণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শিশু যখন উত্তেজিত থাকে, তখন তার সঙ্গে চিৎকার করে কথা বললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বরং শান্ত স্বরে কথা বলা, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিশুর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা বেশি কার্যকর হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, পরিচিত ও নিরাপদ ব্যক্তির উপস্থিতি শিশুর চাপ ও আবেগগত প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। নবজাতকের ক্ষেত্রে মায়ের সঙ্গে ত্বকের সরাসরি সংস্পর্শ ব্যথার প্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়ক হতে পারে। আবার কিছু গবেষণায় মায়ের ছবি দেখার সঙ্গে শিশুদের মস্তিষ্কের ভয় ও আবেগ-সংশ্লিষ্ট কার্যকলাপের পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

এসব ফলাফল থেকে বোঝা যায়, শিশুর মানসিক নিরাপত্তা ও পরিচিত মানুষের সহায়তা তার আবেগ সামলানোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

শিশু রেগে গেলে অভিভাবকদের করণীয়

শিশু রেগে গেলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে বোঝানোর চেষ্টা না করে পরিস্থিতি সামলানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো। কয়েকটি অভ্যাস এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

১. নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন

শিশু চিৎকার করলে অভিভাবকদেরও বিরক্ত লাগতে পারে। তবে সেই মুহূর্তে নিজের স্বর নিচু রাখা এবং ধীরে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। বড়দের শান্ত আচরণ শিশুকে নিরাপদ বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

২. শিশুর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন

শিশু কেন রেগে গেছে, তা বোঝার চেষ্টা করুন। খেলনা ভেঙে যাওয়া, পছন্দের কিছু না পাওয়া, ক্ষুধা, ক্লান্তি কিংবা হঠাৎ কোনো পরিবর্তন তার বিরক্তির কারণ হতে পারে।

প্রয়োজনে সহজ ভাষায় বলতে পারেন, ‘তুমি এটা না পেয়ে মন খারাপ করেছ, তাই না?’ তবে কোনো শিশু রাগের সময় এ ধরনের কথা শুনে আরও উত্তেজিত হলে তাকে জোর করে কথা বলাতে হবে না। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর আলোচনা করা যেতে পারে।

৩. নিয়মের বিষয়ে দৃঢ় থাকুন

শিশুকে ভালোবাসা মানে তার প্রতিটি দাবি মেনে নেওয়া নয়। কোনো আচরণ অনিরাপদ হলে স্পষ্টভাবে নিষেধ করতে হবে। যেমন, রাগ করে কাউকে মারা যাবে না। তবে নিয়ম বোঝানোর সময় অপমান, ভয় দেখানো কিংবা শারীরিক শাস্তি এড়িয়ে চলা জরুরি।

৪. শান্ত হওয়ার জন্য সময় দিন

কিছু শিশুর রাগ কমতে কয়েক মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। এ সময় নিরাপদ দূরত্বে থেকে তার পাশে থাকা যেতে পারে। শিশু যদি স্পর্শ বা জড়িয়ে ধরা পছন্দ না করে, তাহলে তাকে জোর করা উচিত নয়।

৫. পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কথা বলুন

শিশু শান্ত হওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করুন। পরেরবার রাগ হলে সে কী করতে পারে, তা বোঝাতে পারেন। একই সঙ্গে তাকে আশ্বস্ত করুন যে রাগ হওয়া স্বাভাবিক, তবে রাগের কারণে অন্যকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

৬. ভালো আচরণকে উৎসাহ দিন

শিশু রেগে গিয়েও যদি মারামারি না করে নিজের কথা বলতে পারে কিংবা অপেক্ষা করতে শেখে, তাহলে তার সেই প্রচেষ্টার প্রশংসা করুন। এতে সে বুঝতে পারে কোন আচরণগুলো ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতে সেগুলো অনুসরণ করতে উৎসাহ পায়।

খেলার মাধ্যমে শেখানো যায় আবেগ নিয়ন্ত্রণ

শিশুকে শুধু উপদেশ দিয়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ শেখানো কঠিন। খেলা, গল্প এবং দৈনন্দিন কাজের মধ্য দিয়ে এ দক্ষতার অনুশীলন করানো যেতে পারে।

গল্প পড়ার সময় কোনো চরিত্র দুঃখ পেলে বা রেগে গেলে তার অনুভূতি নিয়ে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করুন। চরিত্রটি কীভাবে পরিস্থিতি সামলাতে পারত, তা জানতে চান। এতে নিজের ও অন্যের অনুভূতি বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।

‘রেড লাইট, গ্রিন লাইট’ কিংবা গান থামলে স্থির হয়ে যাওয়ার মতো খেলাও কাজে আসতে পারে। এসব খেলায় শিশুকে নির্দেশ শুনতে হয়, অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রয়োজন হলে নিজের কাজ থামাতে হয়।

এ ছাড়া শিশুকে ধীরে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করানো যায়। যেমন, কল্পনায় জন্মদিনের মোমবাতি নেভানোর মতো করে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে বলা যেতে পারে।

দৈনন্দিন রুটিন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং খেলার সময় নিশ্চিত করুন। একটি কাজ থেকে অন্য কাজে যাওয়ার আগে তাকে প্রস্তুত হওয়ার সময় দিন। যেমন, খেলা শেষ করার পাঁচ মিনিট আগে জানিয়ে দিলে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণে তার বিরক্তি কিছুটা কমতে পারে।

অভিভাবকদের মানসিক চাপও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে

শিশুকে শান্ত রাখার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মা-বাবারাও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। বিশেষ করে কাজ, সংসার ও সন্তানের যত্ন একসঙ্গে সামলাতে হলে চাপ আরও বাড়ে।

শিশুর কান্না বা কষ্ট দেখে অভিভাবকদের নিজেদের মধ্যেও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। আবার নিজের শৈশবে শাসন বা কঠোর আচরণের অভিজ্ঞতা থাকলে সন্তানের রাগের প্রতিক্রিয়ায় পুরোনো অভ্যাস ফিরে আসতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৩ সালের এক জরিপে ৪৮ শতাংশ অভিভাবক জানান, বেশির ভাগ দিন তাঁদের মানসিক চাপ অসহনীয় পর্যায়ে থাকে। অন্য প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এ হার ছিল ২৬ শতাংশ।

তবে এই পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের জরিপের ফল, বাংলাদেশের অভিভাবকদের পরিস্থিতির সরাসরি পরিমাপ নয়। তারপরও এটি মনে করিয়ে দেয়, সন্তান লালন-পালনের চাপ অভিভাবকদের জন্যও বাস্তব একটি বিষয়।

তাই নিজের ক্লান্তি উপেক্ষা না করে প্রয়োজনে বিশ্রাম নিন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সহায়তা চান এবং নিজের মানসিক সুস্থতার দিকেও নজর দিন। অভিভাবক নিজে অতিরিক্ত চাপে থাকলে শিশুর আবেগ সামলাতে সহায়তা করাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

শিশুদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা বাড়ছে কি

শিশুদের সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন দেশে গবেষণা চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ২০০ জনের বেশি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৮২ শতাংশ শিক্ষক জানান, তাঁদের মতে নতুন শিক্ষার্থীরা আগের বছরের শিশুদের তুলনায় সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতায় কম প্রস্তুত ছিল।

তবে জরিপে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছায় অংশ নিয়েছিলেন। ফলে এই ফলাফল দিয়ে সব শিশু বা সব শিক্ষকের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্কুল বন্ধ থাকা, সামাজিক যোগাযোগ কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন রুটিন বদলে যাওয়ার প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় শিশুদের নির্বাহী কার্যক্ষমতার বিকাশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এসব পরিবর্তনের কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

পর্দায় অতিরিক্ত সময় কাটানো শিশুর সরাসরি কথোপকথন ও খেলাধুলার সুযোগ কমিয়ে দিতে পারে কি না, সেটিও আলোচনার একটি বিষয়। তবে সব শিশুর আবেগগত সমস্যার জন্য একটি নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা ঠিক হবে না।

শিশুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, বয়স উপযোগী খেলাধুলা, নিয়মিত রুটিন এবং নিরাপদ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে তার সামাজিক ও আবেগগত দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করা যায়।

কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন

শিশুর রাগ বা জেদ সব সময় কোনো রোগের লক্ষণ নয়। বয়স, ব্যক্তিত্ব ও পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশুদের আচরণে পার্থক্য থাকতে পারে। তবে রাগ যদি খুব ঘন ঘন হয়, দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়, দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে কিংবা শিশুর নিজের বা অন্যের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

প্রথমে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। ব্যথা, ঘুমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, শ্রবণজনিত অসুবিধা কিংবা শব্দ ও স্পর্শের প্রতি অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা শিশুর অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এসব বিষয় মূল্যায়ন করা প্রয়োজন হতে পারে।

প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক শিশু মনোবিজ্ঞানী, বিকাশ বিশেষজ্ঞ বা অন্য উপযুক্ত পেশাজীবীর কাছে যাওয়ার পরামর্শ দিতে পারেন। কিছু শিশুর ক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তাজনিত সমস্যা বা এডিএইচডি, উদ্বেগ কিংবা অটিজমের বৈশিষ্ট্য মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে।

এডিএইচডি থাকা কিছু শিশুর মনোযোগ ধরে রাখা, আচরণ থামানো কিংবা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হতে পারে। আবার অটিজম থাকা কিছু শিশুর ক্ষেত্রে শব্দ, আলো, স্পর্শ বা হঠাৎ পরিবর্তন অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে রাগ বা কান্না অস্বস্তি ও চাপের প্রকাশ হতে পারে।

তবে শুধু রাগ বা জেদ দেখে কোনো শিশুর রোগ নির্ণয় করা যায় না। শিশুর সামগ্রিক বিকাশ, আচরণের ধরন, বিভিন্ন পরিবেশে তার প্রতিক্রিয়া এবং অন্যান্য লক্ষণ বিবেচনা করেই বিশেষজ্ঞ সিদ্ধান্ত নেন।

ধৈর্য, নিরাপত্তা ও নিয়মিত সহায়তাই মূল বিষয়

শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা তৈরি হতে সময় লাগে। তাই প্রতিবার রাগ বা কান্না দেখা দিলেই তা ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং শিশুকে নিজের অনুভূতি চিনতে, তা ভাষায় প্রকাশ করতে এবং নিরাপদভাবে পরিস্থিতি সামলাতে শেখানোর চেষ্টা করা প্রয়োজন।

অভিভাবকদের শান্ত আচরণ, নিয়মিত যত্ন, বয়স উপযোগী খেলা এবং স্পষ্ট সীমারেখা শিশুর শেখার প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। একই সঙ্গে শিশুর আচরণ যদি তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বা নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলে, তাহলে পেশাদার সহায়তা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

শিশুর রাগ পুরোপুরি বন্ধ করাই লক্ষ্য নয়। লক্ষ্য হলো, সে যেন নিজের অনুভূতি বুঝতে পারে, হতাশা সামলাতে শেখে এবং রাগের মধ্যেও নিজের ও অন্যের প্রতি নিরাপদ আচরণ করতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G