জুবায়ের হত্যার রায়ে জাবিতে আনন্দ মিছিল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, প্রতিক্ষণ ডটকম
জাবি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী- শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ।
রোববার জুবায়ের হত্যার চার্জসীটভুক্ত আসামীদের মধ্যে ৫ জনের ফাঁসি এবং ৬ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের খবরে শিক্ষার্থীরা কাম্পাসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানারে আনন্দ মিছিল করেছে।
জুবায়ের হত্যার পর খুনিদের বিচারের দাবিতে এই সংগঠনটি জাবির সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গড়ে ওঠে।
সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি তন্ময় ধর রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘আমরা আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা মনে করি আদালত সব কিছু বিবেচনা করে এ রায় দিয়েছেন। তিনি অবিলম্বে রায় কার্যকর চান।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ইংরেজী বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জুবায়ের আহমেদ হত্যার দায়ে ৫ জনের ফাঁসি ও ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।
এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার ১৩ আসামির মধ্যে বাকি ২ জন বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
আজ রোববার জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিতরা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের আশিকুল ইসলাম আশিক, খান মোহাম্মদ রইছ, জাহিদ হাসান, রাশেদুল ইসলাম রাজু, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের মাহবুব আকরাম।
যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে দর্শন বিভাগের ইশতিয়াক মেহবুব অরূপ ও কামরুজ্জামান সোহাগ, ইতিহাস বিভাগের মাজহারুল ইসলাম ও পরিসংখ্যান বিভাগের শফিউল আলম সেতু ও অভিনন্দন কুণ্ড ওরফে অভি ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের নাজমুস সাকিব তপু। আর খালাস পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্র নাজমুল হাসান প্লাবন ও ইতিহাসের মাহমুদুল হাসান।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৮ জানুয়ারি বিকেলে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদকে কুপিয়ে জখম করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর তাকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওইদিন রাতেই রাজধানী ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে মারা যান জুবায়ের।
জুবায়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন আশুলিয়া থানায় ১৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মীর শাহীন শাহ পারভেজ ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল ঢাকার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।
২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনাল-৪।
প্রতিক্ষণ /এডি/এমআইআর
























