পরীক্ষার সময়ে শিশুদের সামনে যেসব কথা এড়িয়ে চলা উচিত

প্রকাশঃ মে ১৮, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

পরীক্ষার সময়টা শুধু শিক্ষার্থীদের জন্যই নয়, বাবা-মায়ের জন্যও মানসিক চাপের সময় হয়ে ওঠে। সন্তানের ভালো ফলাফলের চিন্তা থেকে অনেক সময় অভিভাবকেরা এমন কিছু কথা বলে ফেলেন, যেগুলো আসলে উপকারের বদলে উল্টো চাপ তৈরি করে। ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও এসব কথা শিশুর আত্মবিশ্বাস কমাতে পারে এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

শিক্ষা–মনোবিজ্ঞান বিষয়ক গবেষক সিনথিয়া ম্যাকভে বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই সময়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সন্তানকে চাপ না দিয়ে মানসিকভাবে স্থির ও স্বস্তিতে রাখা, যাতে তারা নিজের সেরাটা দিতে পারে।

যেসব কথা না বলাই ভালো, আর কী বলা যেতে পারে

“চিন্তা করো না, সব ঠিক হয়ে যাবে”
শুনতে আশ্বস্ত করার মতো মনে হলেও এই বাক্যটি খুব নির্দিষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা দেয় না। পরীক্ষার সময় প্রায় সব শিশুই কিছুটা উদ্বিগ্ন থাকে। এর পরিবর্তে বলা যেতে পারে, “এটা চাপের সময়, তবে তুমি চেষ্টা করলে ভালো করতে পারবে।”

“আমাদের সময়ে পরীক্ষা আরও কঠিন ছিল”
এ ধরনের তুলনামূলক কথা শিশুর মনে চাপ তৈরি করতে পারে। এতে তারা নিজেদের কম সক্ষম মনে করতে পারে। এর বদলে বলা ভালো, “পরীক্ষাটা চ্যালেঞ্জিং, তবে তুমি ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নাও।”

“এখনো পড়া শুরু করোনি?”
উদ্বেগ থেকে বলা হলেও এই প্রশ্ন শিশুদের দুশ্চিন্তা বাড়ায়। বরং তাদের পরিকল্পনা জানতে চাওয়া ভালো, যেমন—“তোমার পড়ার রুটিন কেমন? দরকার হলে আমি সাহায্য করতে পারি।”

“তুমি কি এভাবেই পড়ছো?”
প্রত্যেক শিশুর পড়ার ধরন আলাদা হতে পারে। কেউ শান্ত পরিবেশে, কেউ আবার একটু শব্দ বা মিউজিক নিয়ে পড়তে স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তাই তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

অন্যদের সঙ্গে তুলনা করা
“অমুক অনেক ভালো করেছে”—এ ধরনের তুলনা শিশুর আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে। প্রতিটি শিশুর সক্ষমতা আলাদা, তাই তুলনা না করে তাদের অগ্রগতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

“আমি আশা করি তুমি ভালো নম্বর পাবে”
এ ধরনের প্রত্যাশামূলক কথা অনেক সময় অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। শিশুরা তখন ব্যর্থতার ভয় পায়। এর পরিবর্তে বলা ভালো, “আমি চাই তুমি তোমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করো।”

“এখন না পড়লে পরে আফসোস করবে”
এটা সত্যি মনে হলেও এভাবে বললে শিশুরা ভয় পেতে পারে, উৎসাহ পায় না। বরং ইতিবাচকভাবে বলা ভালো, “তুমি চেষ্টা করলে ভালো ফল আসবে।”

পরীক্ষার সময় অভিভাবকের ভূমিকা

গবেষকদের মতে, এই সময় বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় ভূমিকা হলো সহায়ক হওয়া, নিয়ন্ত্রক নয়। শিশুকে পড়াশোনা ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করা, শান্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে কার্যকর সহায়তা হলো শিশুকে বিশ্বাস করা এবং তাদের ওপর অযথা চাপ না দেওয়া। এতে তারা আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের সেরাটা দিতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G