সহকর্মীদের মধ্যে বাড়ছে প্রেমের প্রবণতা, গবেষণায় উঠে এলো এমন তথ্য
বর্তমান শহুরে জীবনে অফিস এখন শুধু পেশাগত দায়িত্ব পালনের জায়গা নয়, অনেকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাজ করা, বিভিন্ন চাপ সামলানো, বিরতির মুহূর্ত ভাগাভাগি করা কিংবা একে অন্যকে সহযোগিতা করতে করতেই অনেক সহকর্মীর মধ্যে তৈরি হচ্ছে বিশেষ বন্ধন। আর সেই সম্পর্কই কখনো কখনো পরিণত হচ্ছে প্রেমে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক কর্মজীবনে মানুষের বড় একটি সময় কাটে অফিসে। ফলে সহকর্মীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা ও মানসিক বোঝাপড়া। ধীরে ধীরে পেশাদার সম্পর্কের বাইরে ব্যক্তিগত অনুভূতির জায়গাও তৈরি হতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মজীবী জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সহকর্মীর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেছেন বা সম্পর্কে জড়িয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে এসব সম্পর্ক পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে কিংবা বিয়েতেও গড়িয়েছে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতিদিন একই পরিবেশে কাজ করার কারণে সহকর্মীদের প্রতি আস্থা তৈরি হয়। একসঙ্গে সমস্যা সমাধান, দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং নিয়মিত যোগাযোগের ফলে অনেকেই মানসিকভাবে কাছাকাছি চলে আসেন। বিশেষ করে ব্যস্ত জীবনে কর্মস্থলই অনেকের প্রধান সামাজিক পরিসরে পরিণত হয়েছে।
তবে অফিসে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু জটিলতাও রয়েছে। অনেকের মতে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কাজের পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্পর্ক ভালো থাকলে কাজের আগ্রহ বাড়লেও, মতবিরোধ বা বিচ্ছেদ হলে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে গুঞ্জন, সহকর্মীদের অতিরিক্ত কৌতূহল কিংবা পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে অনেকেই নিজেদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনতে চান না।
এক কর্মজীবী নারী জানান, একই টিমে কাজ করতে করতেই এক সহকর্মীর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গভীর হয়। নিয়মিত কথা বলা, একসঙ্গে খাবারের বিরতি এবং কাজের বাইরের আলোচনা থেকেই সম্পর্কের শুরু।
অন্যদিকে এক দম্পতি জানান, তারা প্রথমে সহকর্মী ছিলেন, পরে বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কে জড়ান এবং বর্তমানে সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। এখনও তারা একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অফিসে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হতেই পারে, তবে সেটি যেন পেশাদার পরিবেশ বা অন্য সহকর্মীদের স্বস্তিতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
প্রতি / এডি / শাআ









