জলাতঙ্কে আক্রান্ত হলে কি মৃত্যু অনিবার্য ? জানুন করণীয়

প্রকাশঃ মে ২০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:১৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১৮ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশে জলাতঙ্কে মৃত্যুর সংখ্যা আগের তুলনায় কমলেও ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব ও সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে এখনো অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে মানুষের শরীরে ছড়ায়। সাধারণত কামড়, আঁচড় কিংবা খোলা ক্ষতে সংক্রমিত লালা লাগলে ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, ভাইরাস শরীরে প্রবেশের পর ধীরে ধীরে স্নায়ুতন্ত্রে ছড়িয়ে পড়ে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, একবার লক্ষণ প্রকাশ পেলে এই রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি সাধারণ জ্বর বা ফ্লুর মতো মনে হতে পারে। দুর্বলতা, জ্বর, মাথাব্যথা, কামড়ের স্থানে ঝিনঝিনি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। পরে ধীরে ধীরে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, আচরণগত পরিবর্তন, পানি বা বাতাসের ভয়, অতিরিক্ত লালা পড়া, খিঁচুনি কিংবা পক্ষাঘাতের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

তাদের মতে, লক্ষণ প্রকাশের জন্য অপেক্ষা করা বিপজ্জনক। কারণ তখন ভাইরাস মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে শুরু করে এবং বাঁচার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণীর কামড়ের শিকার হন। বর্তমানে বিড়ালের কামড়ের ঘটনাও বেড়েছে। কারণ অনেক পরিবার এখন পোষা বিড়াল পালন করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই জলাতঙ্ক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রথমেই ক্ষতস্থান সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রয়োজনে পোস্ট-এক্সপোজার প্রফিল্যাক্সিস বা পিইপি চিকিৎসা নিতে হয়। এতে ক্ষত পরিষ্কার, র‍্যাবিস ইমিউনোগ্লোবিউলিন এবং কয়েক ডোজ টিকা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সময়মতো এই চিকিৎসা শুরু করলে রোগ প্রতিরোধ প্রায় শতভাগ সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা আরও বলেন, পোষা প্রাণীকে নিয়মিত টিকা দেওয়া, রাস্তার প্রাণী নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের অপরিচিত প্রাণী থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেওয়াও খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে এখনো জলাতঙ্ক বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে কুকুরের মাধ্যমে সংক্রমণের ঘটনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, কোনো প্রাণী কামড়ালে বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসা ও পূর্ণ ডোজ টিকা গ্রহণই জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G