কাতারের মধ্যস্থতায় আবারও চালু হচ্ছে হরমুজ প্রণালি

প্রকাশঃ মে ২৫, ২০২৬ সময়ঃ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিনিময়ে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতাকারী দল জরুরি সফরে তেহরানে পৌঁছেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরির চেষ্টা চলছে। এই সমঝোতা হলে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ৩০ দিনের আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তবে চলমান আলোচনায় বিষয়টি আপাতত পেছনে রেখে সামগ্রিক উত্তেজনা কমানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় কাতারকে অন্যতম কার্যকর দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে এতদিন ওমান ও পাকিস্তান বেশি সক্রিয় ছিল। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরেরও তেহরান সফরের সম্ভাবনার কথা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের ওপর ইরানের কোনো ধরনের টোল বা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মেনে নেওয়া হবে না।

অন্যদিকে মার্কিন গণমাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউস এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেনি।

এরই মধ্যে ইরান ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি’ নামে একটি সংস্থা গঠন করেছে বলে জানা গেছে। এই সংস্থার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের রুট নির্ধারণ ও সম্ভাব্য ফি আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উপসাগরীয় কয়েকটি আরব দেশও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের নতুন কাঠামোর সঙ্গে সম্পৃক্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালির ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক সুবিধা আদায়ের নতুন নজির তৈরি হতে পারে, যা আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী। কারণ হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাঘাই বলেছেন, বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং উত্তেজনা প্রশমিত করা। ইউরেনিয়াম ইস্যুতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেসব খবর প্রকাশ হচ্ছে, তার অনেকটাই অনুমাননির্ভর বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া রাশিয়া ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ নিজেদের কাছে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তেহরান জানিয়েছে, তারা দেশের ভেতরেই সেই মজুদের সমৃদ্ধকরণ মাত্রা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G