শরিকানা কোরবানিতে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে মানতে হবে যে ৯ বিধান

প্রকাশঃ মে ২৫, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৩০ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৩০ অপরাহ্ণ

পবিত্র ঈদুল আজহায় অনেকেই গরু, মহিষ বা উটে একাধিক ব্যক্তি মিলে কোরবানি দেন। ইসলামি শরিয়তে এ ধরনের শরিকানা কোরবানির জন্য রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও সতর্কতা। এসব নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে কোরবানি সহিহ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তাই শরিক হয়ে কোরবানি দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন।

১. শরিকের সংখ্যা নির্ধারণ

গরু, মহিষ ও উটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারবেন। সাতজনের বেশি অংশীদার হলে কোরবানি বৈধ হবে না। ইসলামী শরিয়তে এ সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. নিয়ত হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য

কোরবানি কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি ইবাদত। তাই লোক দেখানো, সামাজিক মর্যাদা কিংবা প্রতিযোগিতার মানসিকতা নিয়ে কোরবানি করলে ইবাদতের উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে। একনিষ্ঠ নিয়ত ও তাকওয়াই কোরবানির মূল শিক্ষা।

৩. হালাল উপার্জনের অর্থ ব্যবহার

কোরবানির জন্য ব্যবহৃত অর্থ অবশ্যই বৈধ উপার্জনের হতে হবে। কোনো শরিকের অর্থ যদি সুদ, ঘুষ বা অন্য কোনো হারাম উৎস থেকে আসে, তাহলে তা পুরো কোরবানির গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শরিক নির্বাচনেও সতর্ক থাকা জরুরি।

৪. প্রত্যেকের অংশ স্পষ্ট হওয়া

প্রত্যেক শরিকের অংশ কমপক্ষে এক-সপ্তমাংশ হতে হবে। একাধিক ব্যক্তি মিলে একটি ভাগ নেওয়া বা নির্ধারিত অংশের কম অংশীদার হওয়া শরিয়তসম্মত নয়।

৫. কোনো শরিক মারা গেলে করণীয়

পশু কেনার পর কোনো অংশীদার মারা গেলে তার ওয়ারিশদের অনুমতি নিয়ে কোরবানি সম্পন্ন করা যাবে। অনুমতি না থাকলে অন্য শরিকদের কোরবানিও জটিলতায় পড়তে পারে। প্রয়োজনে মৃত ব্যক্তির পরিবর্তে নতুন শরিক নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

৬. পশু কেনার পর নতুন শরিক যুক্ত করা

যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব, তিনি পশু কেনার পর চাইলে নতুন শরিক নিতে পারেন। তবে যাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় এবং তিনি এককভাবে কোরবানির নিয়তে পশু কিনেছেন, পরে সেই পশুতে অন্য কাউকে শরিক করা বৈধ হবে না।

৭. গোশত বণ্টনে সমতা বজায় রাখা

শরিকানা কোরবানিতে গোশত ওজন করে সমানভাবে ভাগ করা গুরুত্বপূর্ণ। অনুমাননির্ভর বণ্টন করলে কমবেশির আশঙ্কা থাকে, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।

৮. কসাইয়ের মজুরি আলাদাভাবে দেওয়া

কোরবানির গোশত, চামড়া বা পশুর কোনো অংশ কসাইয়ের পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া যাবে না। তাদের মজুরি নগদ অর্থে পরিশোধ করতে হবে। তবে আলাদা উপহার হিসেবে গোশত দেওয়া যেতে পারে।

৯. হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা রাখা

শরিকানা কোরবানিতে অর্থ লেনদেন ও খরচের হিসাব পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে প্রয়োজন হলে লিখিত হিসাবও রাখা যেতে পারে।

ইসলামে কোরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও তাকওয়া বৃদ্ধি। তাই শরিকানা কোরবানিতে নিয়মগুলো মেনে চললে ইবাদত আরও সুন্দর ও পরিপূর্ণভাবে আদায় করা সম্ভব।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G