যে ৭টি অভ্যাস আপনার কিডনির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে

প্রকাশঃ মে ২৮, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৭ অপরাহ্ণ

মানবদেহের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো কিডনি। এটি শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে বর্জ্য ও অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়। পাশাপাশি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়তা এবং হাড়ের সুস্থতায় প্রয়োজনীয় খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে বিষাক্ত বর্জ্য জমতে শুরু করে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে কিডনি বিকল হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করছে।

নিচে এমন ৭টি অভ্যাসের কথা তুলে ধরা হলো, যেগুলো দ্রুত পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

১. প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করা

ব্যস্ততার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। কিন্তু শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে কিডনি ঠিকভাবে বর্জ্য অপসারণ করতে পারে না। এতে কিডনিতে পাথর ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা জরুরি।

২. অতিরিক্ত লবণ ও সোডিয়াম গ্রহণ

অনেকের খাবারের সঙ্গে আলাদা করে কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। এছাড়া চিপস, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারেও উচ্চমাত্রার সোডিয়াম থাকে। অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়ায়, যা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

৩. ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া

সামান্য ব্যথা বা জ্বর হলেই অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই পেইনকিলার সেবন করেন। নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ খেলে কিডনির রক্তপ্রবাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

৪. বেশি চিনি ও কোমল পানীয় গ্রহণ

অতিরিক্ত চিনি শরীরে নানা জটিলতা তৈরি করে। কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি চা-কফি কিংবা বেশি চিনিযুক্ত খাবার ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। এসব সমস্যার প্রভাব পড়ে কিডনির ওপরও।

৫. মদ্যপানের অভ্যাস

অ্যালকোহল শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করে। পাশাপাশি এটি রক্তচাপও বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মদ্যপান করলে কিডনি ও লিভার দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৬. অস্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খাওয়া

প্রক্রিয়াজাত ও জাঙ্কফুডে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ক্ষতিকর চর্বি থাকে। এসব খাবার উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়, যা কিডনি রোগের অন্যতম কারণ। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ানো উচিত।

৭. নিয়মিত রাত জাগা ও কম ঘুম

দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত জাগার অভ্যাস কিডনির কার্যক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।

সুস্থ রাখতে যা করবেন

কিডনি ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান, কম লবণযুক্ত খাবার, নিয়মিত ঘুম এবং অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়িয়ে চলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে শাকসবজি ও পুষ্টিকর খাবার বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G