টি-ব্যাগেই মিলতে পারে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানির সমাধান

প্রকাশঃ মে ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

বিশুদ্ধ পানির সংকট বিশ্বজুড়ে বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যাগুলোর একটি। বিশেষ করে ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক দূষণ দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বহু দেশের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের উদ্বেগের কারণ। এই পরিস্থিতিতে কম খরচে পানি থেকে আর্সেনিক দূর করার নতুন একটি পদ্ধতি নিয়ে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক বিশেষ ধরনের একটি টি-ব্যাগ তৈরি করেছেন, যা পানির ক্ষতিকর আর্সেনিক উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে সক্ষম। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী এসিএস ওমেগায়।

গবেষকদের দাবি, পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি এই টি-ব্যাগ দূষিত পানি থেকে ৯০ শতাংশেরও বেশি আর্সেনিক অপসারণ করতে পেরেছে। কিছু পরীক্ষায় এর কার্যকারিতা আরও বেশি দেখা গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পানীয় জলে নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্সেনিক থাকলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। দীর্ঘদিন আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করলে ক্যানসার, ত্বকের রোগ, স্নায়বিক জটিলতা এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সাধারণত আর্সেনিক দূর করতে উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পানি শোধন ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই ব্যয়বহুল। ফলে দরিদ্র ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

এই সমস্যা সমাধানে গবেষকরা সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে নতুন ধরনের টি-ব্যাগ তৈরি করেছেন। এতে ব্যবহার করা হয়েছে চুম্বকীয় আয়রন অক্সাইড ন্যানোকণা ও গুঁড়া করা ডিমের খোসা। বিজ্ঞানীদের মতে, এই উপাদানগুলো পানির ভেতরের আর্সেনিক শোষণ করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পরীক্ষায় দেখা গেছে, টি-ব্যাগটি দূষিত পানিতে কিছু সময় রাখলে আর্সেনিকের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এমনকি বাংলাদেশের নলকূপের পানির অনুরূপ নমুনাতেও এটি সফল ফল দিয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

গবেষক দল জানিয়েছে, ব্যবহৃত টি-ব্যাগ পরিষ্কার করে কয়েকবার পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব। ফলে এটি কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবেও কাজে লাগতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি আরও উন্নত করে বাজারে আনা গেলে আর্সেনিকপ্রবণ দেশগুলোর মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো অঞ্চলে, যেখানে এখনও বহু মানুষ আর্সেনিক দূষিত পানির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে এই ধরনের সহজ প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হতে পারে।

গবেষকদের আশা, ভবিষ্যতে স্বল্পমূল্যের এই প্রযুক্তি সাধারণ মানুষের নাগালে পৌঁছালে নিরাপদ পানির সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

20G