ঘোস্ট পার্টিকেলের অদ্ভুত আচরণ, পাল্টে যেতে পারে পদার্থবিজ্ঞানের ধারণা

প্রকাশঃ জুন ১, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৫৮ অপরাহ্ণ

পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল ও দুর্গম অঞ্চল অ্যান্টার্কটিকার বরফের গভীরে চলছে মহাবিশ্বের অজানা রহস্য অনুসন্ধানের এক ব্যতিক্রমী গবেষণা। দক্ষিণ মেরুতে স্থাপিত আইসকিউব নিউট্রিনো মানমন্দিরের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে নিউট্রিনো নামে পরিচিত রহস্যময় কণা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। গবেষকদের মতে, এই গবেষণা ভবিষ্যতে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

কী এই ‘ভৌতিক কণা’

বিজ্ঞানীরা নিউট্রিনোকে অনেক সময় ‘ভৌতিক কণা’ বলেও উল্লেখ করেন। কারণ, এই কণার ভর অত্যন্ত কম এবং এতে কোনো বৈদ্যুতিক চার্জ থাকে না। নিউট্রিনো প্রায় আলোর গতিতে চলাচল করতে পারে এবং খুব কম ক্ষেত্রেই অন্য কণার সঙ্গে প্রতিক্রিয়ায় অংশ নেয়।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি মুহূর্তে অসংখ্য নিউট্রিনো মানবদেহ ভেদ করে চলে গেলেও আমরা তা অনুভব করতে পারি না। এই অদ্ভুত বৈশিষ্ট্যের কারণেই কণাটি নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ দীর্ঘদিনের।

বরফের নিচেই কেন গবেষণাগার

নিউট্রিনো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় গবেষণার জন্য এমন পরিবেশ প্রয়োজন হয়, যেখানে বাইরের বিকিরণ ও শব্দ কম থাকে। দক্ষিণ মেরুর ঘন ও স্বচ্ছ বরফ এ ধরনের গবেষণার জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে।

এ কারণে বরফের গভীরে বিশাল এলাকায় বিশেষ সংবেদক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব যন্ত্র মহাকাশ থেকে আসা সূক্ষ্ম সংকেত শনাক্ত করতে সক্ষম।

গবেষণায় যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তি

প্রায় দেড় দশক ধরে চলা এই প্রকল্পে সম্প্রতি বড় পরিসরে সম্প্রসারণ আনা হয়েছে। গবেষণায় নতুন শত শত যন্ত্র ও অতিরিক্ত শনাক্তকারী লাইন যুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক আলোক-সংবেদনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আগের তুলনায় আরও নিখুঁতভাবে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।

২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে কয়েকটি অভিযানের মাধ্যমে বরফের গভীরে নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে।

কী জানা যেতে পারে এই গবেষণা থেকে

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, এই গবেষণার মাধ্যমে নিউট্রিনোর আচরণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। বিশেষ করে নিউট্রিনো এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেই প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে নতুন অগ্রগতি আসতে পারে।

এ ছাড়া দূর মহাকাশের নক্ষত্র বিস্ফোরণ, মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা এবং অদৃশ্য রহস্যময় পদার্থের মতো বিষয় নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। বর্তমান পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত তত্ত্বের বাইরে নতুন কোনো কণার সন্ধান পাওয়া গেলে তা বিজ্ঞানের জন্য বড় ধরনের আবিষ্কার হয়ে উঠতে পারে।

গবেষকদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে পরিচালিত এই প্রকল্প শুধু একটি কণা শনাক্তের কাজ করছে না, বরং মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও অজানা রহস্য বোঝার নতুন পথ তৈরি করছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G