বর্ষাকালেও কমছে না দাবদাহ, দীর্ঘ হচ্ছে গরমের মৌসুম
বাংলাদেশের ঋতুচক্রে ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। আগে গ্রীষ্মকাল শেষ হলেই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কমে যেত। কিন্তু এখন বর্ষা মৌসুমেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক গরম ও তাপপ্রবাহ দেখা যাচ্ছে। জুন, জুলাই এমনকি আগস্ট মাসেও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এটি শুধু সাময়িক আবহাওয়ার পরিবর্তন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড় সংকেত। বর্ষার স্বাভাবিক ধারা বদলে যাচ্ছে। কোথাও দেরিতে বৃষ্টি শুরু হচ্ছে, কোথাও দীর্ঘ সময় বৃষ্টি অনুপস্থিত থাকছে, আবার স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টিও দেখা দিচ্ছে। এর মাঝেই বাড়ছে গরমের তীব্রতা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি জুন মাসে দেশে কয়েক দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির আশঙ্কাও রয়েছে। জুন, জুলাই ও আগস্টজুড়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ অনেক বেশি থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও কমছে না অস্বস্তি। সাধারণত রাতে তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফেরার কথা থাকলেও এখন অনেক এলাকায় রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকছে।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, বাতাসে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প এবং আকাশে মেঘ থাকার কারণে দিনের বেলায় সঞ্চিত তাপ সহজে বের হতে পারছে না। ফলে রাতেও গরমের অনুভূতি থেকে যাচ্ছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষ ও যারা বাইরে কাজ করেন, তারা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর আবহাওয়া বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্ষাকালেও তাপপ্রবাহের প্রবণতা বাড়ছে। আগে মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত তাপপ্রবাহ বেশি দেখা গেলেও এখন জুন, জুলাই ও আগস্টেও একই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে গরমের মৌসুম দীর্ঘ হয়ে পড়ছে।
আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এল নিনোর প্রভাব এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বঙ্গোপসাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তিত আচরণ এবং বৈশ্বিক জলবায়ুর অস্বাভাবিকতা বাংলাদেশের আবহাওয়ায়ও বড় প্রভাব ফেলছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অতিরিক্ত গরম ও আর্দ্রতার কারণে শরীর স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হতে পারে না। এতে পানিশূন্যতা, ক্লান্তি, হিট স্ট্রেসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে সর্দি, কাশি, জ্বর, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ এবং খাদ্যবাহিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান, বিশুদ্ধ খাবার গ্রহণ এবং দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি অপ্রয়োজনে রোদে বেশি সময় অবস্থান না করাও গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি / এডি / শাআ









